বেঙ্গালুরুর এক বাসিন্দার ১.৬৫ কোটি টাকার সোনা ও রুপোর গহনা বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি বিতর্কের অবসান ঘটাল আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল (ITAT)। গত ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে ট্রাইব্যুনাল করদাতার পক্ষেই রায় দিয়েছে, যা করদাতাদের জন্য এক বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০১৯ সালের ১৪ই নভেম্বর, যখন আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা সুরেশের (নাম পরিবর্তিত) বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশিতে ১.৬৫ কোটি টাকা মূল্যের সোনার ও রুপোর গহনা বাজেয়াপ্ত করা হয়। দপ্তর দাবি করে, এই গহনাগুলি সঠিক নথি ছাড়া কেনা হয়েছে এবং সেগুলিকে ‘অব্যাখ্যাত বিনিয়োগ’ (unexplained investment) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে।
সুরেশ দাবি করেন যে গহনাগুলি তাঁর স্ত্রীর এবং ক্রেডিট কার্ডের মতো ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা জানান যে পেশ করা বিলগুলির সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা গহনার মিল নেই। ফলে, আয়কর দপ্তর অলঙ্কারের সম্পূর্ণ মূল্য সুরেশের করযোগ্য আয়ের সঙ্গে যোগ করে অতিরিক্ত কর ধার্য করে।
সুরেশ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনার অফ ইনকাম ট্যাক্স (আপিল)-এর কাছে আবেদন করেন এবং সেখানে তিনি স্বস্তি পান। এরপর আয়কর দপ্তর মামলাটিকে ITAT-এ নিয়ে যায়।
ট্রাইব্যুনাল সব দিক খতিয়ে দেখে সুরেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। ITAT মন্তব্য করেছে যে, যেহেতু প্রশ্নযুক্ত গহনাগুলি ইতিমধ্যেই সুরেশের স্ত্রীর আয়কর রিটার্নে দেখানো (Disclosed) হয়েছিল, তাই সেগুলির ওপর দ্বিতীয়বার সুরেশের নামে কর আরোপ করা অযৌক্তিক। একই সম্পত্তির ওপর দ্বিগুণ কর চাপানো আইনসঙ্গত নয়।
এই মামলার প্রেক্ষিতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সুরেশ সুরানা করদাতাদের পরামর্শ দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে আয়কর সংক্রান্ত বিবাদ এড়াতে গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস কেনার সময় সঠিক বিল, রসিদ এবং নথি অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। এই রায় একাধিক করদাতাকে স্বস্তি দেবে এবং আর্থিক নথিপত্রে স্বচ্ছতার গুরুত্বকে আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল।





