১ কোটি ৬৭ লক্ষ ভোটারের ওপর কমিশনের কড়া নজর! আপনার নাম থাকলেও কি যেতে হবে শুনানিতে? এখনই মিলিয়ে নিন

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ভোটার তালিকায় বড়সড় রদবদল শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, যাঁদের নাম বর্তমান খসড়া তালিকায় রয়েছে, তাঁদেরও অনেকের ঠাঁই হতে পারে শুনানিতে। কমিশনের নজরে রয়েছেন রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১১ জন ভোটার। এঁদের নথিতে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

কেন ডাক পড়তে পারে শুনানিতে? (প্রধান ৩টি কারণ):
কমিশন সূত্রে খবর, নথিপত্রে বড়সড় গোলমাল থাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষকে তলব করা হতে পারে:

বাবার নামে ভুল: প্রায় ৮৫ লক্ষ ভোটারের বাবার নামে ত্রুটি বা অসঙ্গতি রয়েছে।

বিচিত্র তথ্য: প্রায় ১৩ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের নথিতে বাবা ও মায়ের নাম একই লেখা রয়েছে!

ম্যাপিং সমস্যা: প্রায় ৩০ লক্ষ এমন ভোটার রয়েছেন, যাঁদের নামের সঙ্গে ২০০২ সালের পুরনো তালিকার কোনো মিল বা ‘ম্যাপিং’ পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বিএলও (BLO)-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নোটিস ধরানো শুরু করবেন। বিশেষ করে তলব করা হবে তাঁদের: ১. ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই। ২. যাঁদের পরিবারের কোনো সদস্যের নাম পুরনো তালিকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ৩. যাঁরা ভোটার ফর্ম ফিলাপ করার সময় ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

যাঁদের বাড়িতে নোটিস যাবে, তাঁদের নির্দিষ্ট দিনে শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। সেখানে সঠিক পরিচয়পত্র এবং নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে নিজের নাম স্থায়ী তালিকায় নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কারণে শুনানিতে অনুপস্থিত থাকলে খসড়া তালিকা থেকে নাম স্থায়ীভাবে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনার নাম তালিকায় থাকলেও নথিতে কোনো ভুল নেই তো? এখনই ভোটার পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।