“১৯৮৪ থেকে লড়ছি, এমন নৃশংসতা দেখিনি!” মহিলা-শিশুদেরও মারছে বাহিনী? বিস্ফোরক মমতা!

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের চূড়ান্তলগ্নে এসে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অমানবিক’ অত্যাচারের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিজের ভোটটি দেওয়ার পর বাইরে বেরিয়েই তিনি রীতিমতো মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি হাতড়ে তিনি দাবি করেন, এর আগে কোনো নির্বাচনে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তিনি দেখেননি।

“মহিলা ও শিশুদেরও ছাড়া হয়নি” সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি ১৯৮৪ সাল থেকে ভোট লড়ছি, লোকসভা-বিধানসভা মিলিয়ে অনেক ভোট দেখেছি। কিন্তু এবারের মতো অত্যাচার আমি জীবনে দেখিনি।” তাঁর অভিযোগ, বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সাধারণ ভোটারদের ওপর চড়াও হচ্ছে। এমনকি অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, “মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হচ্ছে, শিশুদের গায়েও হাত তোলা হচ্ছে। লাঠি দিয়ে যেভাবে মানুষকে মারছে, তা ভাবা যায় না।”

কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কেন বুথের ভেতরে রাজ্য পুলিশকে রাখা হয়নি? তাঁর দাবি, বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই সুপরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন মানে উৎসব, কিন্তু এখানে তো মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”

বিজেপির পাল্টা দাবি: মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, “দিদি হার নিশ্চিত জেনেই বাহিনীর ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী কেবল নিজের কাজ করছে এবং শান্তি বজায় রাখছে।”

ডেইলিয়ান্ট ইনসাইট: ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ‘মহিলা ও শিশু নিগ্রহের’ অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিকেলের এই বয়ান কি শেষ দফার ভোটের সমীকরণ বদলে দেবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন কমিশনের জবাবি পদক্ষেপের দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy