১৮ হাজার থেকে সোজা ১০ হাজার টাকা কুইন্টাল! হঠাৎ পাটের দামে এমন ধস কেন নামল?

আম ও রেশমের পাশাপাশি ‘সোনালী আঁশ’ পাট উৎপাদনেও মালদহ জেলায় রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। নদী তীরবর্তী ও জলাভূমি এলাকায় প্রক্রিয়াকরণের সুবিধা থাকায় জেলার ১৫টি ব্লকেই কমবেশি পাট চাষ করা হয়। প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হলেও, কালিয়াচক-২, কালিয়াচক-৩, রতুয়া ও মানিকচক এলাকায় এর প্রবণতা সবথেকে বেশি। কিন্তু চলতি মরশুমে আচমকাই পাটের বাজারদর কমে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। কিছুদিন আগেও যে উন্নতমানের পাটের দাম কুইন্টাল প্রতি প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা এক ধাক্কায় নেমে এসেছে মাত্র ১০,৫০০ থেকে ১১ হাজার টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পাটের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।

কেউ পাঁচ বিঘা তো কেউ দশ বিঘা জমিতে অত্যন্ত পরিশ্রম করে পাট চাষ করেছেন। কালিয়াচক-২ ব্লকের বাঙ্গিটোলা এলাকার এক পাটচাষি মৃদুল মণ্ডল জানান, পাট চাষে জমি তৈরি, পরিচর্যা, গাছ কাটা, জলে পচানো থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়িয়ে শুকানো পর্যন্ত প্রচুর কায়িক পরিশ্রম ও খরচ হয়। এই কাজে দৈনিক পাঁচ থেকে দশ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। কিছুদিন আগেও ভালো দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছিলেন তাঁরা, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ তুলেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আর এক কৃষক গোবিন্দ মণ্ডল জানান, বিঘা প্রতি দুই থেকে আড়াই কুইন্টাল পাট উৎপাদন হয়। একদিকে দাম কমেছে, অন্যদিকে নদীর জল বাড়ায় পাট তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে কাঁচা অবস্থাতেই পাট কেটে ফেলতে হচ্ছে।

মালদহ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান দুষ্মন্ত কুমার রাঘব জানান, অন্যান্য গতানুগতিক ফসলের মতোই জেলায় এবার ব্যাপকভাবে পাট চাষ হয়েছে। উৎপাদন অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়ে এবং চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মেই দাম কমে গিয়েছে। অতিরিক্ত উৎপাদনের এই ধাক্কা সামলাতে তিনি কৃষকদের বাজারের চাহিদা ও মরশুম বুঝে পাটের পাশাপাশি বিকল্প ফসল চাষ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে লোকসানের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়। যদিও জেলায় নতুন করে একাধিক জুট মিল চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে পাট চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন কৃষকরা, তবে বর্তমান বাজারদর পতনের ফলে সেই আশায় আপাতত বড় ধাক্কা লেগেছে।