মধ্য এশিয়ায় বড় মাস্টারস্ট্রোক মোদীর! উর্বেকিস্তান ও কিরগিজস্তান সফরে কেন কাঁপছে বিশ্ব?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার, ২৯শে আগস্ট, উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তান সফরে রওনা হয়েছেন। মধ্য এশিয়ার এই কৌশলগত দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই চার দিনের সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর এই ঐতিহাসিক সফরে প্রথমে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে পৌঁছাবেন। এরপর তিনি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে যাবেন, যেখানে তিনি মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-র ২৬তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।
সফরে রওনা হওয়ার প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী মোদী এক জোরালো বার্তায় বলেছেন যে, তিনি নিরাপত্তা, বর্ধিত সংযোগ এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের ওপর ভিত্তি করে এসসিও-র জন্য ভারতের দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অত্যন্ত আগ্রহী। বিশেষ করে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল গড়ে তুলতে তিনি সদস্য দেশগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ২৯ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সফরে মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন।
শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চলের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই সফর আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির যৌথ প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে। ২০১৭ সাল থেকে ভারত এসসিও-র একজন অত্যন্ত সক্রিয় ও গঠনমূলক সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছে। তাশখন্দে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদী সে দেশের রাষ্ট্রপতি শাভকাত মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। এছাড়া তাশখন্দ স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের শাস্ত্রী স্মৃতিসৌধ এবং মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্র পরিদর্শনেরও কথা রয়েছে তাঁর। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল সংযোগ ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্বের মোট জিডিপির ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী ১০ সদস্যের এসসিও মঞ্চে ভারতের এই উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় বার্তা দিচ্ছে।