১৭ মাসের রেকর্ড ভেঙে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি! মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেসের

দেশের অর্থনীতিতে ফের অশনি সংকেত। গত জুন মাসে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির (Retail Inflation) হার একলাফে বেড়ে ৪.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূল্যবৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ নিয়ে সরব হয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। মুদ্রাস্ফীতির এই পরিস্থিতির জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন জয়রাম রমেশ।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব: সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মূলত খাদ্যপণ্যের চড়া দামের কারণেই জুন মাসে উপভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতি ৪.৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালকে ভিত্তি বছর ধরে নতুন সিপিআই সিরিজ চালু হওয়ার পর এই প্রথমবার মূল্যবৃদ্ধির হার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) নির্ধারিত ৪ শতাংশের স্বস্তিদায়ক সীমাকে ছাপিয়ে গেল। অর্থনীতিবিদদের মতে, এর ফলে গৃহস্থালির বাজেটে বড়সড় প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি, এই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরবিআই যদি ঋণের সুদের হার বাড়ায়, তবে বাড়ি ও গাড়ির ইএমআই (EMI)-এর বোঝাও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তে পারে।

কংগ্রেসের কড়া আক্রমণ: মূল্যবৃদ্ধির এই পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। মোদী সরকারের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, গত ১২ বছরে বিজেপি সরকারের ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতি’ এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় তলানিতে এসে ঠেকেছে। জয়রাম রমেশের প্রশ্ন, “দেশের সাধারণ নাগরিকরা যখন ক্রমবর্ধমান আর্থিক যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয়ে কবে মুখ খুলবেন?”

সাধারণের উদ্বেগ: বাড়তে থাকা খাদ্যপণ্যের দাম যে আমজনতার রান্নাঘরে আগুন ধরিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে সঞ্চয় কমছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া—এই দ্বিমুখী চাপে দিশেহারা মধ্যবিত্ত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী দিনে এই মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়লে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এখন দেখার বিষয়, সরকার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী ধরণের মুদ্রানীতি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।