১৭৫৯ কোটি খরচ করে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে দিচ্ছেন ট্রাম্প তৈরি হচ্ছে ৯৯৯ জনের জন্য বিলাসবহুল বলরুম।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাবের আদলে ৯০,০০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে একটি সুবিশাল বলরুম তৈরির জন্য তিনি হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক ইস্ট উইং (East Wing) সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা শুরু করেছেন।

প্রথমে ২০০-২৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমান করা হলেও, বর্তমানে এই প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৭৫৯ কোটি টাকা)। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই খরচ আমেরিকান করদাতাদের নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল এবং ‘কিছু বন্ধুর’ অনুদান থেকে আসছে।

কেন এই বলরুম?

ট্রাম্পের যুক্তি, হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে বড় কক্ষ ইস্ট রুম প্রায় ২০০ জনকে বসানোর সুযোগ দেয়, যা রাষ্ট্রীয় ডিনার এবং বড় অনুষ্ঠানের জন্য খুবই ছোট। তিনি বহিরাঙ্গনে তাঁবু ব্যবহার করা পছন্দ করেন না। তিনি জানান, এই নতুন বলরুমের আসন সংখ্যা হবে ৯৯৯ জন, যা একটি অভিষেকের জন্যও যথেষ্ট বড়।

কোথা থেকে আসছে এত টাকা?

যদিও ট্রাম্প বলছেন সরকারি অর্থ খরচ হচ্ছে না, তবে এই অর্থ ‘ট্রাস্ট ফর দ্য ন্যাশনাল মল’ নামক একটি অলাভজনক সংস্থার মাধ্যমে আসছে। হোয়াইট হাউস যদিও দাতাদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, গুগল (অ্যালফাবেট), অ্যাপল, অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট, লকহিড মার্টিন, এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম কয়েনবেসের মতো বড় বড় সংস্থাগুলির কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউটিউবের ওপর ট্রাম্পের করা একটি মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে অ্যালফাবেট (Google-এর মূল সংস্থা) ২২ মিলিয়ন ডলার ‘ট্রাম্পের পক্ষে’ এই ট্রাস্টে দান করেছে।

সমালোচকরা কেন ক্ষুব্ধ?

ঐতিহাসিক সংরক্ষণ গোষ্ঠীগুলি এবং সমালোচকরা এই প্রকল্পের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের প্রধান উদ্বেগ হলো: ১. ঐতিহাসিক স্থাপত্য ধ্বংস: ইস্ট উইংয়ে ফার্স্ট লেডির কার্যালয়, দর্শকদের প্রবেশপথ এবং জরুরি ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র (PEOC) ছিল। ট্রাম্প প্রথমে ভাঙার কথা অস্বীকার করলেও, এখন সম্পূর্ণ কাঠামো ভেঙে দিচ্ছেন। ২. স্বচ্ছতার অভাব: সমালোচকরা অভিযোগ করছেন, হোয়াইট হাউস কোনো রকম জন শুনানির বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা (NCPC)-এর অনুমোদন ছাড়াই তড়িঘড়ি ঐতিহাসিক অংশটি ভেঙে ফেলছে এবং দাতাদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করছে না। ৩. ব্যক্তিগত শখ: বলরুমের নকশাটি মার-এ-লাগোর মতো স্বর্ণখচিত, ঝাড়বাতিযুক্ত এবং লুই চতুর্দশ শৈলীর হওয়ায় বিরোধীরা এটিকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিলাসবহুল শখের প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, এই বলরুম তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ (জানুয়ারি ২০২৯)-এর আগে সম্পন্ন হবে।