দীর্ঘ ১৬ বছর পর কি তবে কাটতে চলেছে অচলাবস্থা? চিনের দুর্ভেদ্য ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’ টপকে কি ফের সেখানে সক্রিয় হতে চলেছে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন পরিষেবা? সম্প্রতি টেক দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি খবরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে এই ফেরার নেপথ্যে সার্চ ইঞ্জিনের চেয়েও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা AI।
কেন হঠাৎ চিনের দিকে ঝুঁকছে গুগল? বিশ্বজুড়ে এখন AI বা কৃত্রিম মেধার লড়াই তুঙ্গে। এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে গুগলের প্রয়োজন শক্তিশালী ডেটা সেন্টার এবং অত্যাধুনিক পরিকাঠামো। খবর অনুযায়ী, গুগল এখন চিনের একটি সংস্থার থেকে বিশেষ ধরনের ‘কুলিং এজেন্ট’ (Cooling Agent) কিনতে চাইছে।
-
AI পরিকাঠামোয় ভূমিকা: অত্যাধুনিক AI প্রসেসর বা চিপগুলো কাজ করার সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। এই বিশাল তাপ নিয়ন্ত্রণ করে সার্ভারকে সচল রাখতে লিকুইড কুলিং সিস্টেম বা বিশেষ কুলিং এজেন্টের প্রয়োজন হয়।
-
চিনা প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব: লিকুইড কুলিং প্রযুক্তিতে বর্তমানে চিনা সংস্থাগুলো (যেমন- Envicool) বিশ্বে অনেকটাই এগিয়ে। তাই নিজের AI পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে বেজিংয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে গুগলের।
১৬ বছরের সেই পুরনো লড়াই ২০১০ সালে সেন্সরশিপ এবং সাইবার আক্রমণের অভিযোগে চিন থেকে নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন গুটিয়ে নিয়েছিল গুগল। মাঝখানে ‘প্রজেক্ট ড্রাগনফ্লাই’-এর মতো কিছু গোপন চেষ্টা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে ২০২৫-২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে AI-এর দৌড়ে জেমিলাই (Gemini)-কে এগিয়ে রাখতে চিনের বাজার ও প্রযুক্তি এখন গুগলের কাছে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞের মত: বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সার্চ ইঞ্জিন না ফিরলেও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে চিনা হার্ডওয়্যার এবং কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা গুগলের জন্য একটি কৌশলগত চাল। এর মাধ্যমে চিনা সরকারের সঙ্গে বরফ গলার ইঙ্গিতও মিলছে।