১৬০০ কোটির কয়লা গায়েব! সরকারি খনিতে বিশাল কেলেঙ্কারির অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি

সরকারি খনি থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা গায়েব! এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে এখন উত্তাল ভারতের শিল্পমহল ও রাজনৈতিক আঙিনা। সিঙ্গারেনি কোলিয়ারিজ় কোম্পানি লিমিটেড (SCCL) থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টন কয়লা উধাও হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি কিসান রেড্ডি।

সিঙ্গারেনি কোলিয়ারিজ় একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা, যার মালিকানা ভারত সরকার ও তেলঙ্গানা সরকারের যৌথ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সংস্থায় তেলঙ্গানা সরকারের অংশীদারিত্ব ৫১ শতাংশ এবং ভারত সরকারের ৪৯ শতাংশ। আর্থিক অসংগতির এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত ১০ জুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডিকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ কয়লা গায়েব হওয়ার ফলে সংস্থাটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সংস্থাটির ৫১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে ১৬০০ কোটি টাকার কয়লা চুরি বা গায়েব হওয়া সংস্থার আর্থিক ভিত্তিকে আরও নড়বড়ে করে দিতে পারে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অবিলম্বে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, কয়লার মজুত ও পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার সুপারিশও করা হয়েছে।

তবে এই ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত তেলঙ্গানার কংগ্রেস সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। রাজ্য সরকার এই খবরটিকে পুরোপুরি স্বীকার বা অস্বীকার—কোনোটিই করেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কেন সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের দোহাই দিচ্ছেন? অন্যদিকে, তেলঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রী মল্লু ভাট্টি বিক্রমার্কের দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তেলঙ্গানার এই সরকারি খনিটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিসান রেড্ডির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির সম্পর্ক মোটেই ভালো নয়। হায়দরাবাদ মেট্রো রেলের কাজ থমকে থাকা নিয়ে কেন্দ্রের দিকেই আঙুল তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী টাকা আটকে রাখছেন এবং মেট্রো প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এবার কয়লা খনি সংক্রান্ত এই নতুন বিতর্ক দুই সরকারের মধ্যে সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর তদন্তের দাবি তেলঙ্গানা সরকার কতটা গুরুত্ব দেয় এবং ১৬০০ কোটি টাকার এই কয়লা রহস্যের জট কীভাবে খোলে।