মামলার পাহাড় অথচ স্টিয়ারিং ধরার লোক নেই! কলকাতা সিবিআই দপ্তরে চালকের চরম সংকট!

কেসের কোনো অভাব নেই, তদন্তকারী চৌকস অফিসাররাও সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কিন্তু তদন্তের কাজে অবিরাম ছুটে চলা গাড়ির স্টিয়ারিং ধরবে কে? এই অদ্ভুত ও চরম সংকটে পড়েছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআইয়ের কলকাতা জোন। একের পর এক চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে কলকাতা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নিত্যদিন ছুটতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের। কিন্তু সেই তদন্তের ঝোড়ো গতিতেই বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি চালকের তীব্র অভাব।
পরিস্থিতি এমন একটি পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, তদন্তের কাজ নির্বিঘ্নে সচল রাখতে শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের সাহায্য চাইতে বাধ্য হয়েছে সিবিআই। রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো দাপ্তরিক চিঠিতে সিবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কলকাতা জোনের অপারেশনাল বা কার্যনির্বাহী প্রয়োজনের তুলনায় দপ্তরে বিভাগীয় চালকের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল। ফলে দৈনন্দিন সরকারি কাজ পরিচালনায় বিরাট সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশের পুল থেকে অন্তত ৮ জন দক্ষ ড্রাইভিং জানা কনস্টেবলকে ডেপুটেশনে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, ওই কনস্টেবলদের নিকট অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ি চালানোর দীর্ঘ ও পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
সিবিআইয়ের মূল যুক্তি হলো, বর্তমান সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক উচ্চপর্যায়ের মামলার তদন্ত চলছে। একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের পাঠানো মামলা রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে উচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একাধিক স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের আইনি দায়িত্বও রয়েছে এই কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন তদন্তের প্রয়োজনে কলকাতা থেকে জেলায় জেলায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে গোয়েন্দা আধিকারিকদের। কিন্তু পর্যাপ্ত চালকের সংকটের কারণে সেই জরুরি যাতায়াতেই মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
সিবিআইয়ের এই বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট থেকে ইচ্ছুক, কর্মদক্ষ ও যোগ্য কনস্টেবলদের নামের তালিকা তলব করা হয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের নামের মনোনয়ন পাঠাতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, তদন্তকারী অফিসার থেকে শুরু করে নথিপত্র—সবকিছুই প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু তদন্তের গাড়ি যাতে মাঝপথে কোথাও থমকে না যায়, তার জন্যই এবার ‘স্টিয়ারিং’-এর নেপথ্যে রাজ্য পুলিশের সহযোগিতার হাত চাইছে সিবিআই।