‘শেষ কথা হয়েছিল আগের রাতে…!’ নেপাল বিপর্যয়ের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া বাবাকে ফিরে পেতে আকুতি মেয়ের!

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেহালার পর্ণশ্রী এলাকার ২২জি মে রোডের বাসিন্দা রঞ্জিত হাওলাদার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে তাঁর পরিবারে। নেপালে পর্যটকদের একটি দলের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তিনি। দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সমস্ত রকমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বাবাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে অত্যন্ত আকুল আবেদন জানিয়েছেন নিখোঁজ রঞ্জিতের কন্যা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নেপালের হড়পা বানের আগের দিন রাতেও শেষবারের মতো বাবার সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকেই আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার ভয়াবহতা টের পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে পর্যটক দলের মূল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের আপ্রাণ চেষ্টা করা হয় এবং তাঁদের তরফ থেকে কিছু তথ্যও মেলে। তবে সরাসরি নেপাল সরকারের প্রশাসনিক স্তরে এখনও পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবারটি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রঞ্জিতের মেয়ে অত্যন্ত ভেঙে পড়া কণ্ঠে জানান, “বিপর্যয়ের পর থেকে বাবার সঙ্গে আর কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারিনি। শেষবার বিপর্যয়ের ঠিক আগের দিন রাতে কথা হয়েছিল। সরকার যেন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বাবাকে নিরাপদে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনুক, আমরা শুধু এটুকুই চাই।”

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় অবস্থিত ভোতেকোশী নদীতে হঠাৎ করেই এক বিধ্বংসী হড়পা বান নেমে আসে। তিব্বতের সীমান্ত লাগোয়া সংবেদনশীল এলাকায় এই আকস্মিক বিপর্যয়ের ঠিক আগেই প্রবল ভূকম্পন ও ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনা ঘটেছিল। বুধবার নেপাল এবং চিনের তিব্বত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এই ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসের কবলে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সরকারি ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক তাণ্ডবে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬৫ জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রকৃতির এই আকস্মিক কোপে নিমেষেই বহু পাকা সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, অসংখ্য বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চিরতরে ব্যাহত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এখনও পর্যন্ত শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত এলাকায় নদীর জলস্তর হঠাৎ মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পরেই ভোতেকোশী নদীতে এই ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। নেপালী প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তিব্বত অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই এই বিধ্বংসী বন্যার খবর আসে। ফলে কোনো হিমবাহ-উৎপন্ন আকস্মিক জলস্রোত বা বরফ গলা জলের ঢলের ফলেই এই বিশাল বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটে থাকতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূবিজ্ঞানীদের একটি অংশের মতে, লাগাতার ভূমিধসের ফলে প্রচুর পাথর ও বরফের স্তূপে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই এই ধরনের নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।