ওষুধের দোকানে গেলেই আর মিলবে না সিরাপ! নতুন নিয়মে বড় ধাক্কা সাধারণ মানুষের

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চিকিৎসা সংক্রান্ত অভ্যাসে এবার বড়সড় পরিবর্তন নিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার। ওষুধ বিক্রি সংক্রান্ত আইনে বড়সড় সংশোধনী এনে কেন্দ্র জানিয়ে দিল, এখন থেকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধের দোকান থেকে আর কোনো ধরনের সিরাপ বা কাফ সিরাপ কেনা যাবে না। দীর্ঘকাল ধরে সর্দি-কাশি বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার জন্য মানুষ দোকানে গিয়ে সরাসরি নিজের ইচ্ছামতো কাফ সিরাপ কিনে নিতেন। কিন্তু নতুন এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের এই স্বাচ্ছন্দ্যে বড়সড় ছেদ পড়ল।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এবং ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের এই নতুন সিদ্ধান্তের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো ওষুধের অপব্যবহার রোধ করা। বর্তমান সময়ে কাফ সিরাপে থাকা কিছু নির্দিষ্ট উপাদান নেশার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছিল। এই অপব্যবহার রুখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কঠোর এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে যেকোনো সিরাপ কিনতে হলে রোগীর শারীরিক অবস্থা যাচাই করে নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই নতুন নিয়মের ফলে দোকানদারদের জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কোনো ফার্মেসি যদি প্রেসক্রিপশন ছাড়া কাফ সিরাপ বা অন্য কোনো সিরাপ বিক্রি করে ধরা পড়ে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে ওষুধের দোকানের লাইসেন্স বাতিল থেকে শুরু করে জেল পর্যন্ত হতে পারে। ওষুধের দোকানের মালিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন প্রতিটি বিক্রির হিসাব সঠিকভাবে নথিবদ্ধ করে রাখেন এবং নিয়মিত তা ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত উপকারী হবে। অনেকেই সাধারণ সর্দি-কাশির উপসর্গ নিয়ে নিজে থেকেই সিরাপ কিনে খান, যা অনেক সময় মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক হওয়ায় রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বাধ্য হবেন, ফলে ভুল ওষুধ খাওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। তবে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ মনে করছেন, জরুরি প্রয়োজনে যখন চিকিৎসক পাওয়া যায় না, তখন এই নিয়ম মেনে ওষুধ সংগ্রহ করা কিছুটা অসুবিধাজনক হবে। বিশেষ করে গ্রামীন এলাকা বা যেখানে ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসকের সুবিধা নেই, সেখানে এই নতুন নিয়ম সাধারণ মানুষকে বিড়ম্বনায় ফেলতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই নতুন নিয়মটি শুধুমাত্র কাফ সিরাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যে সমস্ত সিরাপে নেশা জাতীয় উপাদান বা বিশেষ ধরনের অ্যালকালয়েড রয়েছে, সেই সব ওষুধই এই আওতার মধ্যে পড়বে। ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের তরফে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়েছে যাতে তারা ওষুধের দোকান থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ধরনের সিরাপ কেনার জেদ না ধরেন। এছাড়াও, দেশের সমস্ত ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন ওষুধের প্যাকেটের গায়ে স্পষ্টভাবে লিখে দেন যে এটি প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই নিয়ম সারা দেশে পুরোপুরি কার্যকর হতে চলেছে। ওষুধের দোকানগুলোতে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সাঁটানো শুরু হয়েছে। প্রশাসন থেকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে, মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং, পরবর্তী সময়ে দোকান থেকে কাফ সিরাপ বা যেকোনো সিরাপ নেওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার কাছে বৈধ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন আছে কি না।