দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের জালে এবার ধরা পড়ল সীমান্তের ওপার থেকে আসা নাশকতার এক ভয়ংকর ছক। মাত্র ১৬টি সিম কার্ড আর ৮টি মোবাইল ফোন— এই ডিজিটাল সূত্র ধরে এগোতেই পর্দাফাঁস হলো পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গি মডিউলের। খাস ভারতের হৃদপিণ্ড দিল্লিতে বড়সড় বিস্ফোরণ বা হামলার পরিকল্পনা ছিল এই মডিউলের। কিন্তু জাঁদরেল পুলিশ কর্তাদের ক্ষুরধার তদন্তে অপারেশন শুরু হওয়ার আগেই তা ভেস্তে গেল।
তদন্তকারীদের দাবি, এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলি ছিল জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র। একেকটি ফোনের জন্য একাধিক সিম কার্ড ব্যবহার করা হতো যাতে সহজেই পুলিশের নজর এড়ানো যায়। কিন্তু দিল্লি পুলিশ প্রযুক্তির নিপুণ ব্যবহারের মাধ্যমে সেই লুকোনো তথ্য হাতড়ে বের করে ফেলে। ফোনের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক ‘এনক্রিপ্টেড’ মেসেজ এবং ভয়েস নোট। জানা গিয়েছে, সীমান্তপারের হ্যান্ডলাররা এই ১৬টি সিমের মাধ্যমে জঙ্গিদের নির্দেশ দিচ্ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, জঙ্গিরা বিশেষ কোড ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করত যাতে কেউ সন্দেহ না করে। কিন্তু দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল সেই কোড ল্যাঙ্গুয়েজ ডিকোড করতেই আসল সত্যিটা বেআব্রু হয়ে পড়ে। ধৃতদের জেরা করে আরও জানা গিয়েছে, এই মডিউলটি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি এবং ভিড়ভাট্টা এলাকাগুলোকে টার্গেট করেছিল।
বর্তমানে এই ১৬টি সিম কোথা থেকে জোগাড় করা হয়েছে এবং ভুয়ো নথিপত্র দিয়ে এই ফোনগুলি কেনা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের এই সাফল্য ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিপদ এখনও কাটেনি, তবে পুলিশের এই মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সাময়িক পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে পাক মদতপুষ্ট চক্রান্তকারীরা।