১৩ বছরের অভিজ্ঞতা, ১০ হাজার ঘণ্টার ওড়ার হাত! মাঝআকাশে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম জয় করে ১৭৪ জনের প্রাণ বাঁচানো কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর?

বুধবার পর্যন্ত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর ছিলেন দেশের আর পাঁচটা সাধারণ বাণিজ্যিক বিমানের পাইলটের মতোই একজন। তেরো বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা এবং প্রায় দশ হাজার ঘণ্টা আকাশ ছোঁয়ার মুকুট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। কিন্তু বুধবারের সেই রোমহর্ষক ঘটনার পর রাতারাতি গোটা বিশ্বের কাছে তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু—সবার মুখে এখন একটাই নাম, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। অসীম সাহসিকতা আর ঠান্ডা মাথায় দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইটের ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে এখন তিনি খবরের শিরোনামে।

কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর? এভিয়েশন জগতে অত্যন্ত পরিচিত ও দক্ষ পাইলট হিসেবে নাম রয়েছে স্মিতের। বোয়িং ৭৩৭ বিমান চালনায় তাঁর দীর্ঘদিনের পারদর্শিতা রয়েছে। অতীতে স্পাইসজেট সংস্থাতেও দীর্ঘদিন লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-ভিত্তিক বিমান সংস্থা ‘ফ্লাইদুবাই’-এ ডিরেক্ট-এন্ট্রি ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মরত।

বুধবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনিই। কিন্তু কে জানত, মাঝআকাশেই এমন এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে? সহ-পাইলটের হঠকারী ও প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েও তিনি যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন, তা এভিয়েশন ইতিহাসে বিরল নজির গড়েছে। নিজের রক্তের তোয়াক্কা না করে, ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে তিনি যেভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণ অন্যদের হাতে তুলে দেন এবং সৌদির মাটিতে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করান, তা কেবল দক্ষ পাইলটের পক্ষেই সম্ভব।

আজ বিশ্বজুড়ে যখন তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা চলছে, তখন সোমনাথ মন্দির থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রার্থনা—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই বীর ভারতীয় পাইলটের দ্রুত সুস্থতা।