১২ বছর পর পাকভূমিতে পা রাখবেন মোদী? ২০২৭-এর এসসিও সম্মেলন ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে!

বিশককের সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-র হাই-ভোল্টেজ সম্মেলন শেষ হতেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। আগামী ২০২৭ সালে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে পাকিস্তান। সেই ঐতিহাসিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এই আমন্ত্রণ প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ বা ১২ বছর পর কি সত্যিই পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখবেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী?
উল্লেখ্য, ভারত দীর্ঘকাল ধরে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, ক্রস-বর্ডার সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্ভব নয়। বিশকেকের এসসিও মঞ্চ থেকেও ঘুরিয়ে পাকিস্তানকে একহাত নিয়ে সন্ত্রাসবাদ দমনে তাদের নিষ্ক্রিয়তা এবং উদাসীনতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, শান্তি এবং সন্ত্রাসবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও সিন্ধু জলচুক্তির প্রসঙ্গ এড়িয়ে জল বণ্টনকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। সবমিলিয়ে, বিশকেকের সামিট মঞ্চে দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ নেতার এই বাক্যবিনিময়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের বরফ এখনও সম্পূর্ণ গলেনি।
ইতিমধ্যেই এসসিও-র আবর্তিত চেয়ারম্যান পদ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। সেই সুবাদে আগামী বছর সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে ইসলামাবাদ। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ২০২৭ সালের এই সামিটের সময় আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক মূল্যায়ন করেই নয়াদিল্লি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাকিস্তান সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদী তাঁর কার্যকালে একবারই পাকিস্তান সফর করেছিলেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তান থেকে নয়াদিল্লি ফেরার পথে আচমকাই লাহোরে নেমে তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক অতীতে সেই বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর প্রতিদান হিসেবে পাকিস্তান ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদকে মদত জুগিয়েছে বলে অভিযোগ ভারতের। তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্বমঞ্চে বারবার ইসলামাবাদের মদতপুষ্ট জঙ্গি কার্যকলাপের মুখোশ খুলে দিয়েছে নয়াদিল্লি। এমনকি ২০২৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকেননি প্রধানমন্ত্রী মোদী; তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এখন দেখার বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভারত সরকার আগামী বছরের এই হাই-প্রোফাইল সম্মেলনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কী কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।