পাথর মাফিয়ার ডেরায় টাকার পাহাড়! টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের গাড়ি থেকে মিলল লাখ লাখ বিদেশি মুদ্রা

বীরভূম জেলার অপরাধের দুনিয়ায় ফের এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের সূচনা হলো। পলাতক ও কুখ্যাত পাথর মাফিয়া মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কাছ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ২৭ হাজার টাকার বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বোলপুর মহকুমা আদালতে মামলার সরকারি আইনজীবী বিপদতারণ ভট্টাচার্য চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পেশ করে জানান যে, ধৃত মহম্মদ মফিজুদ্দিন ওরফে শান্ত শেখের কাছ থেকে থাইল্যান্ড সহ একাধিক বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি নগদ নব্বই হাজার ভারতীয় টাকা এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আদালত ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ আগস্ট, যখন বোলপুর থেকে ইলামবাজারগামী সড়কে মহিদাপুর এলাকার কাছে বিশেষ নাকা চেকিং চালাচ্ছিল পুলিশ। সেই সময় সন্দেহভাজন একটি লাল রঙের চারচাকা গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। গাড়িটি থেকে উদ্ধার হয় বিভিন্ন দেশের বহুমূল্য বিদেশি মুদ্রা, যার মধ্যে থাই বাতের মতো কারেন্সিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর পরেই পুলিশ মহম্মদ মফিজুদ্দিন ওরফে শান্ত শেখকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি হলেন বীরভূমের কুখ্যাত পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিন্টু শেখের নিকটআত্মীয়। পুলিশের এই அதிர্ধ অভিযানে অপরাধ জগতের বহু অজানা তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, পলাতক মাফিয়া টুলু মণ্ডল বর্তমানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সিউড়ি জেলা আদালত কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই হুলিয়া জারি করেছে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ‘রেড কর্নার’ নোটিশও জারি করা হয়েছে। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত বিজয় মালিয়া, মেহুল চোকসি কিংবা নীরব মোদির কায়দাতেই হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ কারবার চালিয়ে দেশ থেকে চম্পট দিয়েছেন এই কুখ্যাত মাফিয়া। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টুলু মণ্ডল আদালতে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁর যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সম্পূর্ণ বাজেয়াপ্ত করবে রাজ্য সরকার।
তদন্তে নেমে পুলিশের ঘুম ছুটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, কারণ এর আগেও টুলুর এক আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি বিদেশি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুধু তাই নয়, টুলুর সঙ্গে গোপন যোগসূত্রের অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের বাড়ি থেকেও আরব ও পাকিস্তানের মুদ্রা উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। এবার সেই একই চক্রের ধারাবাহিকতায় টুলুর আরও এক আত্মীয়ের কাছ থেকে এমন বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ও সন্দেহজনক নথি উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তকারী অফিসাররা নতুন করে নড়েচড়ে বসেছেন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ধৃতকে পুনরায় আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক, এবং আদালতের হেফাজত থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই বিদেশি মুদ্রার উৎস ও অন্তরালে থাকা বড় কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান পেতে তৎপর হয়ে উঠেছে বীরভূম জেলা পুলিশ।