বক্স অফিসে ঝড়ের গতিতে এগোচ্ছে ‘ধুরন্ধর ২’। বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই ১২০০ কোটির ক্লাবে নাম লিখিয়েছে এই মেগা বাজেট ছবি। কিন্তু সাফল্যের এই শিখরে পৌঁছানোর মুহূর্তেই দানা বেঁধেছে চরম বিতর্ক। ছবির লভ্যাংশের অর্ধেক টাকা দাবি করে বসলেন পাকিস্তানের করাচির কুখ্যাত এলাকা লিয়ারির বাসিন্দারা। লিয়ারি গ্যাং-ওয়ার এবং সেখানকার জীবনসংগ্রামের প্রেক্ষাপটে ছবির কিছু অংশ চিত্রিত হওয়ায় এই দাবির সূত্রপাত।
পাকিস্তানের লিয়ারি অঞ্চলের একাংশের দাবি, ছবির গল্প এবং চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে তাদের সংস্কৃতি এবং বাস্তব জীবনের ঘটনাকে ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্মাতা সংস্থা কোটি কোটি টাকা আয় করলেও যাদের জীবনকাহিনি পর্দার অনুপ্রেরণা, তাদের কিছুই দেওয়া হয়নি। লিয়ারির স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই ছবির চিত্রনাট্যের জন্য যে গবেষণা এবং তথ্য নেওয়া হয়েছে, তা সরাসরি তাদের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত। তাই নৈতিক ও ব্যবসায়িক খাতিরে লভ্যাংশের অন্তত ৫০ শতাংশ বা ৬০০ কোটি টাকা লিয়ারির উন্নয়নের জন্য দিতে হবে।
বলিউডের বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কপিরাইট এবং রয়্যালটি আইন অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের প্রেক্ষাপট ব্যবহারের জন্য লভ্যাংশ দাবি করাটা বেশ জটিল বিষয়। তবে ‘ধুরন্ধর ২’ টিম এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নেটিজেনদের একাংশের মতে, লিয়াকত বা লিয়ারির মতো সেনসিটিভ এলাকাকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করলে সেখানকার মানুষের দাবি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, ভারতীয় অনুরাগীদের দাবি—এটি নিছক একটি কাল্পনিক চলচ্চিত্র, তাই লভ্যাংশের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
১২০০ কোটির ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েও এখন আইনি এবং আন্তর্জাতিক বিতর্কের মুখে দাঁড়িয়ে ‘ধুরন্ধর ২’। শেষ পর্যন্ত এই বিবাদ আদালতের দরজায় গড়ায় না কি আলোচনার মাধ্যমে মিটে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





