১১৬৬ বঙ্গাব্দে শুরু পুজো! পোড়ামাটির অলংকরণ থেকে ১৩টি শিব মন্দির, দেখে নিন মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত কালীবাড়ির বিশেষত্ব

আজ সারা দেশে আলোর উৎসব দীপাবলি। আর সেই উপলক্ষ্যে মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর বহরমপুরের শতাব্দী প্রাচীন দয়াময়ী কালী মন্দিরে সকাল থেকেই উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড়। এই মন্দির শুধু প্রাচীনই নয়, এর বেশ কিছু রীতি-নীতি একে আরও ঐতিহ্যমণ্ডিত করে তুলেছে।

এই মন্দিরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—মন্দিরের গর্ভগৃহে কোনও রকম ইলেকট্রিক আলো বা বিদ্যুৎ নেই। মোমবাতি ও প্রদীপের আলো জ্বেলেই সারা বছর দেবীর আরাধনা করা হয়।

স্থাপত্য: এই কালী মন্দিরকে অনেকে মুর্শিদাবাদের বৃহত্তম চারচালা মন্দির বলে মনে করেন। প্রায় ৪০ ফুট উঁচু এই মন্দিরের প্রবেশপথের সামনের দিকে পোড়ামাটি ও চুন-বালির অলংকরণ রয়েছে, যেখানে পৌরাণিক দেবদেবী, দশাবতার, লঙ্কাযুদ্ধ ও ফুলবাড়ির নকশা দেখা যায়।

প্রতিষ্ঠা: জানা যায়, বাংলা, বিহার, ওড়িশার কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির নায়েব কৃষ্ণেন্দু হোতা, যিনি ছিলেন একজন সাধক, তিনি ১১৬৬ বঙ্গাব্দে (১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে) এই মন্দির সহ মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। দেবী এখানে জাগ্রতা বলে সকলের মান্যতা।

মন্দির চত্বর: প্রাচীরবেষ্টিত এই মন্দিরক্ষেত্রে দয়াময়ী কালী মন্দির ছাড়াও ১৩টি শিব মন্দির রয়েছে (উত্তর মুখে ১টি, পূর্ব মুখে ৬টি ও পশ্চিম মুখে ৬টি)। এছাড়া পশ্চিম দিকে আলাদা কক্ষে রাম-সীতা, রাধাকৃষ্ণ, অন্নপূর্ণা, অর্ধনারীশ্বরের সুদৃশ্য মন্দিরও রয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী এই দয়াময়ী মন্দিরে কালীপুজোর দিন সকাল থেকেই সাজসাজ রব। ভক্তরা মায়ের কাছে পুজো দিতে ভিড় করছেন। রাতে হবে বিশেষ পুজো ও হোমযজ্ঞ। যদিও সংস্কারের কারণে মন্দিরগুলির প্রাচীনত্ব কিছুটা নষ্ট হয়েছে, তবুও ঐতিহ্যবাহী এই কালীবাড়ি আজও বহরমপুরবাসীর কাছে পূজনীয় স্থান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy