১০ মিনিটের লড়াইয়ে নামল অ্যামাজন-ফ্লিপকার্ট, ডিসকাউন্টের ঝড়ে কি কোণঠাসা ব্লিংকিট-জেপ্টো?

ভারতীয় খুচরা ও প্রযুক্তি বাজারে বর্তমানে ‘কুইক কমার্স’ বা ১০ মিনিটের মধ্যে পণ্য সরবরাহের নেশায় মত্ত সবাই। কিন্তু এই শিল্প এখন এক বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্ট এই দ্রুত গতির বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের এই আগ্রাসী প্রবেশ বাজারে এক নতুন ‘মূল্যযুদ্ধ’ বা প্রাইস ওয়ারের জন্ম দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্ট মাঠে নামায় কুইক কমার্স খাতে ব্যাপক ছাড় ও ক্যাশব্যাকের হিড়িক পড়ে গেছে। অ্যামাজন তাদের ‘অ্যামাজন নাউ’ পরিষেবায় অর্ডারের মূল্যের ওপর ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক দিচ্ছে। অন্যদিকে, ‘ফ্লিপকার্ট মিনিটস’ ১ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে অভাবনীয় অফার নিয়ে এসেছে। এমনকি জেপ্টোও নন-গ্রোসারি পণ্যের ওপর বড় ছাড় দিচ্ছে।
তবে এই যুদ্ধের ময়দানে ব্যতিক্রম চিত্র দেখাচ্ছে ব্লিংকিট এবং সুইগি ইন্সটামার্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। মুনাফার ধারা বজায় রাখতে তারা সরাসরি এই মূল্যযুদ্ধে না জড়িয়ে বেশ সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। ব্লিংকিট ইতিমধ্যেই ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে পরিচালন মুনাফা ঘোষণা করে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। কোটাক ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজ-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্লিংকিট এবং ইন্সটামার্ট বর্তমান বাজারে মূল্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুশৃঙ্খল অবস্থানে রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, মার্কেট শেয়ারের চেয়ে এখন মার্জিনের উন্নতি করা বেশি জরুরি।
ব্লিংকিট ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ৩,০০০টি ডার্ক স্টোর খোলার পরিকল্পনা করছে। অ্যামাজনও পিছিয়ে নেই; তারা ৩০০টি শহরে তাদের পরিষেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। তবে শুধু ডার্ক স্টোর খুললেই হবে না, প্রয়োজন নিয়মিত গ্রাহক। এজন্যই অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্ট এখন ডিসকাউন্ট ও ফ্রিবিজের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহক অর্জনের এই লড়াইয়ে এখন দুটি ধারা স্পষ্ট। একদল কোম্পানি মার্জিন ও টেকসই অর্থনীতির দিকে নজর দিচ্ছে, অন্যদিকে অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো নতুন প্রতিযোগীরা বাজার দখল করতে আগ্রাসী ডিসকাউন্টের পথ বেছে নিয়েছে। ব্লিংকিট, জেপ্টো ও ইন্সটামার্টের জন্য এই চাপ সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দিনশেষে, এই যুদ্ধের লাভবান হচ্ছে গ্রাহকরাই।