পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। আগামী ১০ মার্চ থেকে রাজ্যে দ্বিতীয় দফার কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রথম দফায় ১ মার্চ ইতিমধ্যে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে প্রবেশ করেছে। ১০ মার্চ আরও ২৪০ কোম্পানি বাহিনী আসার ফলে রাজ্যে মোট কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৮০ কোম্পানি। মূলত ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাতে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ‘এরিয়া ডমিনেশন’ বা রুট মার্চ করাই হবে এই বাহিনীর প্রধান কাজ।
কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এবং রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত জেলাগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনায় (৩০ কোম্পানি)। এরপরই তালিকায় রয়েছে মুর্শিদাবাদ (১৬ কোম্পানি), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (১৫ কোম্পানি) এবং পূর্ব মেদিনীপুর (১৪ কোম্পানি)। উত্তরবঙ্গের মালদা এবং দক্ষিণবঙ্গের কলকাতায় ১২ কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নদীয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলোতেও কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ তৈরি করা হচ্ছে। কমিশনের নির্দেশ, বাহিনী পৌঁছানোর পর থেকেই জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে রুট মার্চ শুরু করতে হবে। বাহিনীর গতিবিধিতে নজর রাখতে জিপিএস (GPS) এবং বডি ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিরোধীরা কমিশনের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানালেও, শাসক শিবিরের নজর এখন তৃণমূল স্তরে বাহিনীর ভূমিকার দিকে।