শিক্ষাকে বলা হয় জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষককে সেই মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর। কিন্তু যখন সেই কারিগরই হয়ে ওঠেন ঘাতক, তখন প্রশ্ন ওঠে সমাজের নৈতিকতা নিয়ে। অঙ্কের একটি ছোট ভুল কি এতটাই অপরাধ হতে পারে যে তার জন্য ১০ বছরের এক নিষ্পাপ ছাত্রীর আঙুল মটকে দিতে হবে? সম্প্রতি এমনই এক হাড়হিম করা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে যা শুনে হতবাক সকলেই।
স্কুল সূত্রে খবর, ক্লাসে অঙ্ক কষতে দেওয়া হয়েছিল চতুর্থ শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে। সমাধান করতে গিয়ে সে সামান্য কিছু ভুল করে ফেলে। এতেই মেজাজ হারান সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা। অভিযোগ, রাগের মাথায় তিনি ওই ছাত্রীর হাত ধরে মোচড় দেন, যার ফলে ওই খুদে কিশোরীর আঙুল ভেঙে যায়। ব্যথায় যন্ত্রণায় ছাত্রীর আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে ক্লাসরুমের পরিবেশ।
তীব্র উত্তেজনা ও অভিযোগ: ঘটনার পর রক্তাক্ত এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আঙুলের হাড়টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ওই ‘নৃশংস’ শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করতে হবে এবং তাঁর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আইনি পদক্ষেপ: ইতিমধ্যেই পুলিশ ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। স্কুলের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান যুগে যেখানে ‘কর্পোরাল পানিশমেন্ট’ বা শারীরিক নিগ্রহ আইনত দণ্ডনীয়, সেখানে একজন শিক্ষিকার এমন আচরণ শিক্ষার আঙিনায় বড়সড় কালিমালিপ্ত করল বলেই মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।