১০ কেজি ওজনের জিলিপি! বাংলার এই মেলায় ভিড় করেন কেবল জিলিপির টানেই, কোথায় বসে এই মেলা?

বাঙালির মিষ্টির তালিকায় জিলিপির স্থান প্রথম সারিতে। কিন্তু আপনি কি জানেন, পশ্চিমবঙ্গে এমন কিছু মেলা রয়েছে যেখানে মানুষ ঠাকুর দেখতে বা সার্কাস দেখতে নয়, বরং শুধু জিলিপি খেতেই ভিড় জমান? উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—বাংলার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে এই ‘জিলিপি মেলা’র ঐতিহ্য।

১. বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়া: যেখানে জিলিপি হয় ১০ কেজির! বাঁকুড়া ১ ব্লকের কেঞ্জাকুড়া গ্রামে ভাদ্র সংক্রান্তি ও বিশ্বকর্মা পুজোর সময় বসে এই বিখ্যাত জিলিপি মেলা। এখানকার বিশেষত্ব হলো জিলিপির আকার। ২-৩ কেজি থেকে শুরু করে ১০ কেজি ওজনের জিলিপিও এখানে অর্ডার দিলে পাওয়া যায়। কয়েক প্রজন্ম ধরে স্থানীয় কারিগররা এই বিশালাকার জিলিপি তৈরির শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

২. আলিপুরদুয়ারের মহাকাল ধাম মেলা: উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ২ ব্লকের মহাকালগুড়ি গ্রামে ভাদ্র মাসের শেষের দিকে এক রবিবারে বসে এই মেলা। নাম মহাকাল ধাম মেলা হলেও এটি স্থানীয়দের কাছে ‘জিলিপি মেলা’ নামেই পরিচিত। এখানকার সাদা জিলিপি খাওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। মনে করা হয়, এই মেলায় এসে জিলিপি না কিনলে পুজো দেওয়াই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

৩. বর্ধমানের সদরঘাট মেলা: পয়লা মাঘে দামোদর নদের তীরে বর্ধমানের সদরঘাটে যে মেলা বসে, তার অন্যতম আকর্ষণ হলো আড়াই প্যাঁচের গরম জিলিপি। স্থানীয়রা একে ভালোবেসে ‘জিলিপি মেলা’ বা ‘শাঁকালুর মেলা’ও বলে থাকেন। শীতের সকালে নদীর বাতাসে গরম জিলিপি আর ঘুড়ি ওড়ানোর আমেজ এক অন্য মাত্রা পায়।

৪. কোচবিহারের রাসমেলা ও ভেটাগুড়ির জিলিপি: কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো ভেটাগুড়ির জিলিপি। প্রায় ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নন্দী পরিবার এই বিশেষ জিলিপি বানিয়ে আসছে। এই জিলিপি একবার মুখে দিলে অন্য সব জিলিপি ফিকে মনে হতে বাধ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy