১০০ গণ্ডি পার! মেজরিটি না থাকলে কী হতে পারে? ভোট আবহে বিস্ফোরক তৃণমূল সুপ্রিমো

নির্বাচনী উত্তাপের পারদ চড়ছে। আর নিজের ঘরের মাঠ ভবানীপুর থেকে এবার বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে এক স্ট্রিট কর্নার সভা থেকে নেত্রীর গলায় শোনা গেল একদিকে আত্মবিশ্বাস, আর অন্যদিকে এক গভীর আশঙ্কার সুর।

‘মহারাষ্ট্র মডেল’ নিয়ে সতর্কবার্তা

এদিন জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেছে। তাঁর কথায়, “১৫২টি আসনের মধ্যে আমরা ইতিমধ্যেই ১০০-র বেশি পার করে গিয়েছি।” তবে জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকলেও, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ‘মেজরিটি’র প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভোটারদের সতর্ক করেছেন তিনি। মমতা বলেন, “আমাদের পুরো মেজরিটি থাকলে সরকার গড়তে সুবিধা হবে। না হলে ওরা বিক্রি করবে, ঠিক যেমনটা মহারাষ্ট্রে করেছে।” ঘোড়া কেনাবেচার রাজনীতি রুখতে ভোটারদের একজোট হয়ে জোড়াফুলে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার

বিজেপির ঘোষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, জঙ্গমহলে ৩০০০ টাকা দেওয়ার টোপ দিয়ে ফর্ম বিলি করা হয়েছিল, যা এখন জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “বাংলায় সারা জীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলবে। আমরা কাজ করি, আর ওরা মিথ্যে বলে।” বাংলাকে শিল্পের নিরিখে এক নম্বর দাবি করে বিরোধীদের প্রচারকে নস্যাৎ করে দেন তিনি।

দিল্লির নেতাদের আক্রমণ

কেন্দ্রীয় নেতাদের নিশানায় রেখে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন যে, দিল্লি থেকে নেতারা এসে জবরদস্তি অস্ত্র আনা বা ভোটারদের নাম কেটে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণতন্ত্রে কেন সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে? ভবানীপুরের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, সরকার তৃণমূলই গড়বে, তাই বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জোড়াফুলকে জয়ী করা প্রয়োজন।

শনিবারের এই স্ট্রিট কর্নার সভায় মমতার নিশানায় যেমন ছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, তেমনই ছিল আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার ডাক। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আসলে বাংলার ভোটারদের ‘স্থিতিশীল সরকার’ নির্বাচনের বার্তা দিতে চেয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy