২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে এক ‘পারমাণবিক’ বিস্ফোরণ ঘটাল তৃণমূল কংগ্রেস। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা তথা বহিষ্কৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের একটি ১৯ মিনিটের গোপন ভিডিও বা স্টিং অপারেশন ভিডিও প্রকাশ করেছে শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, এই ভিডিওতে বিজেপির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার ‘গোপন চুক্তিতে’ লিপ্ত হতে দেখা গিয়েছে হুমায়ুনকে।
কী আছে সেই ১৯ মিনিটের ভিডিওতে? তৃণমূলের সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওটি গত বছরের ১৯ ডিসেম্বরের। সেখানে হুমায়ুন কবিরকে বলতে শোনা যাচ্ছে (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম), যে তাঁর দল আসন্ন নির্বাচনে ৫০ থেকে ৬০টি আসনে জয়লাভ করবে। ভিডিওতে অভিযোগ উঠেছে যে:
নির্বাচনের পর বিজেপিকে সমর্থনের বিনিময়ে তিনি ১০০০ কোটি টাকা দাবি করেছেন।
বিনিময়ে ৩০০ কোটি টাকা আগাম (অ্যাডভান্স) চেয়েছিলেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
মুসলিম ভোট ভাগ করে দিয়ে পরোক্ষভাবে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়েছে।
শুভেন্দু-মোহন যাদবের নাম জড়িয়ে বিতর্ক: তৃণমূলের ফাঁস করা এই ভিডিওতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নামও উঠে এসেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, সুকৌশলে সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের থেকে সরিয়ে দিয়ে হিন্দু ভোট বিজেপির বাক্সে সংহত করার ষড়যন্ত্র করছেন হুমায়ুন কবির।
হুমায়ুনের পাল্টা চ্যালেঞ্জ: নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তিনি পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “তৃণমূল আগে প্রমাণ দিক এই ভিডিও আসল। এটি এআই (AI) দিয়ে বানানো জাল ভিডিও হতে পারে। সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে আমি মানহানির মামলা করব।” তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়েই ভোটের মুখে এই ‘ডার্টি গেম’ খেলছে শাসকদল।
আগুনে ঘি ঢালল ‘হেলিকপ্টার’ বিতর্ক: সম্প্রতি জনসভায় যোগ দিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা শুরু করেছেন হুমায়ুন। একজন ছোট দলের নেতার এই বিপুল খরচের উৎস কী, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। আজকের এই ‘স্টিং অপারেশন’ সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।
২০১৬-র নারদ এবং ২০২৪-এর সন্দেশখালির পর, ২০২৬-এর ভোটের মুখে ‘হুমায়ুন কবির ভিডিও’ বাংলার জনমতকে কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।





