প্রকৃতির মেজাজ বিগড়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। আকাশ জুড়ে ঘনীভূত হচ্ছে এক বিশাল ঘূর্ণাবর্ত, যার বিস্তৃতি প্রায় ১০০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এই বিশাল বায়ুমণ্ডলীয় আলোড়ন আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বড়সড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকা এবং গাঙ্গেয় অববাহিকায় এর প্রভাব হবে মারাত্মক।
মৌসম ভবন জানাচ্ছে, এই ঘূর্ণাবর্তের ফলে সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগের দিকে ঢুকতে শুরু করেছে। এর জেরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে একাধিক জেলায়। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে, যা জনজীবনকে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশেষ করে পাকা ফসলের ওপর এই দুর্যোগ অভিশাপ হয়ে নেমে আসতে পারে।
প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং বন্দরে সতর্কতামূলক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই ধরনের বিশাল ঘূর্ণাবর্ত অনেক সময় ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই আগাম প্রস্তুতি নিতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (NDRF/SDRF) তৈরি রাখা হয়েছে।