২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—বাংলার মসনদে এবার কে বসবেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হ্যাটট্রিক কি বজায় থাকবে, নাকি শিল্পাঞ্চল থেকে জঙ্গলমহল গেরুয়া ঝড়ে ওলটপালট হবে? এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এল সি-ভোটার (C-VOTER)-এর প্রথম চাঞ্চল্যকর ওপিনিয়ন পোল বা জনমত সমীক্ষা।
সমীক্ষার পরিসংখ্যান বলছে, এবারের লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে। গতবারের তুলনায় দুই প্রধান শিবিরের ভোট শতাংশে বড়সড় রদবদল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
সি-ভোটার সমীক্ষার মূল নির্যাস:
শাসক শিবিরের বর্তমান অবস্থান: সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গের গড়গুলোতে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য বজায় থাকলেও নারী ভোটার এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রভাব কতটা অটুট থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে ম্যাজিক ফিগার। তবে বেশ কিছু জেলায় প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ার (Anti-incumbency) প্রভাব স্পষ্ট।
বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি: উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলে বিজেপি গতবারের মতোই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপির আসন সংখ্যা গত বিধানসভার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শাসকদলের জন্য অশনি সংকেত হতে পারে।
তৃতীয় শক্তির ভূমিকা: বাম-কংগ্রেস জোট বা নির্দল প্রার্থীরা খুব বেশি আসন না জিতলেও, বেশ কিছু হাইভোল্টেজ আসনে তারা কার ভোট কাটছে, তার ওপরই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে।
ভোটারদের পছন্দের ইস্যু কী?
সি-ভোটার-এর সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী জনগণের একটি বড় অংশ জানিয়েছেন, তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি, আর জি কর ইস্যু এবং কর্মসংস্থান প্রধান ভূমিকা নেবে। অন্যদিকে, গ্রামীণ বাংলার মানুষ এখনও সরকারি প্রকল্প ও রেশন ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই মমতার ওপর আস্থা রাখছেন।
কে এগিয়ে ম্যাজিক ফিগারে? সমীক্ষার প্রাথমিক তথ্য বলছে, বর্তমানে তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষই ২২০ থেকে ২৩০টি আসনে সরাসরি টক্কর দিচ্ছে। কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে খুব বেশি দূরে নেই, তবে জনমতের হাওয়া প্রতিদিন বদলাচ্ছে।
সতর্কবার্তা: মনে রাখবেন, ওপিনিয়ন পোল কেবল একটি সম্ভাব্য আভাস মাত্র। শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নির্ধারিত হবে ২০২৬-এর মে মাসে ইভিএম খোলার পরেই। তবে এই সমীক্ষা যে রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরে ধুকপুকানি বাড়িয়ে দিয়েছে, তা নিশ্চিত।





