হ্যাং করা স্লো ফোন নিমেষেই চলবে রকেটের গতিতে! ঝটপট জেনে নিন দুর্দান্ত এই ঘরোয়া উপায়গুলি

দীর্ঘদিন ধরে একটিমাত্র স্মার্টফোন একটানা ব্যবহার করলে তার গতি কমে যাওয়া কিংবা মাঝেমধ্যে হ্যাং করা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। ডিভাইসে অজস্র অ্যাপের জট, অপ্রয়োজনীয় ফাইল এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা নানা প্রসেসের কারণে প্রসেসরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তবে নতুন হ্যান্ডসেট কিনে অতিরিক্ত টাকা খরচ করার আগে কয়েকটি সহজ ও কার্যকরী কৌশল কাজে লাগালে আপনার পুরনো ফোনের কর্মক্ষমতা অনেকটাই আগের মতো ঝকঝকে ও দ্রুতগতির করে তোলা সম্ভব।

প্রথমত, ফোনে এমন বহু অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা থাকে যা মাসের পর মাস ব্যবহারই করা হয় না। এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় ভারী অ্যাপ বা গেম ব্যাকগ্রাউন্ডে গোপনে সক্রিয় থেকে ফোনের র‍্যাম ও ব্যাটারির মারাত্মক অপচয় ঘটায়। তাই ডিভাইসের ওপর থেকে অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতে অবিলম্বে অব্যবহৃত অ্যাপগুলি চিহ্নিত করে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা উচিত। পাশাপাশি, ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ প্রায় সম্পূর্ণ ভরে গেলে অপারেটিং সিস্টেমের স্বাভাবিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে ছবি, ভিডিয়ো বা ভারী ফাইল মুছে মেমোরিতে পর্যাপ্ত জায়গা খালি রাখা অত্যন্ত জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ক্লাউড স্টোরেজে ব্যাকআপ হিসেবে সরিয়ে রাখলে ফোন অনেক হালকা থাকে।

দ্বিতীয়ত, প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশন নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ডিভাইসের অভ্যন্তরে প্রচুর অস্থায়ী ডেটা বা ক্যাশ ফাইল জমা হতে শুরু করে। সেটিংসে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কার করলে ফোনের ইন্টারনাল মেমোরি খালি হয় এবং প্রক্রিয়াকরণের গতি দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, ডিসপ্লেতে চলমান লাইভ ওয়ালপেপার, অতিরিক্ত উইজেট এবং আকর্ষণীয় অ্যানিমেশন পুরনো প্রসেসরের ওপর প্রচণ্ড কাজের চাপ সৃষ্টি করে। ফোনের ডিসপ্লে সাধারণ রাখা এবং অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে দিলে হ্যান্ডসেট তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত কাজ করা শুরু করে। এক সঙ্গে একাধিক ভারী কাজ না করে অব্যবহৃত ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ রাখাও সমানভাবে জরুরি।

তৃতীয়ত, স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও বিভিন্ন অ্যাপের লেটেস্ট সফটওয়্যার আপডেট রয়েছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি আপডেটের মাধ্যমে ফোনের পুরনো বাগ ও সিস্টেমের দুর্বলতা দূর করে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক বা দু’বার ফোন রিস্টার্ট করলে ডিভাইসের র‍্যাম ও মেমোরি রিফ্রেশ হয়ে যায়। সব ক’টি উপায় প্রয়োগ করার পরেও যদি ফোনের কার্যক্ষমতা আশানুরূপ না বাড়ে, তবে ব্যাকআপ রেখে শেষ উপায় হিসেবে ‘ফ্যাক্টরি ডেটা রিসেট’ করতে পারেন। এটি ফোনকে একদম প্রাথমিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। অনেক সময় দীর্ঘদিনের পুরনো ব্যাটারির স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়লেও ফোন স্লো হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করিয়ে ব্যাটারি বদল করলেই পুরনো হ্যান্ডসেট আবারও দীর্ঘদিন মসৃণভাবে সচল রাখা সম্ভব।