মাংসের দোকান থেকে মানুষের মাথার খুলি! গঙ্গাসাগরে তৃণমূল নেতার কারবারে থমকে গেল এলাকাবাসী

মাংসের দোকান থেকে মানুষের একটি আসল মাথার খুলি উদ্ধারের মতো লোমহর্ষক ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরে। বৃহস্পতিবার গঙ্গাসাগরের কৃষ্ণনগর বাজার এলাকায় এই নৃশংস ও রহস্যজনক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক এবং চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কীভাবে একটি মাংস বিক্রির দোকানে মানুষের মাথার খুলি এল, তা নিয়ে এখন তদন্ত শুরু করেছে সাগর থানার পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ইতিমধ্যে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

ঠিক কী ঘটেছিল কৃষ্ণনগর বাজারে?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর বাজার এলাকার বাসিন্দা শত্রুগণ দাস নামের এক ব্যক্তি ওই মাংসের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দোকানদার আইয়ুব আলি শেখ তাঁর হাতে একটি ব্যাগ তুলে দেন। প্রথমে শত্রুগণবাবু বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি, তাঁর ধারণা ছিল পাশের কোনো পরিচিত বাড়ির জন্য হয়তো মাংসের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুটা দূরে গিয়ে ব্যাগটি খুলতেই তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়! ব্যাগের ভেতরে মাংসের টুকরো তো দূরঅস্ত, সক্ষাত মানুষের একটি মাথার খুলি দেখতে পান তিনি।

এই দৃশ্য দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান শত্রুগণবাবু। দ্রুত এই খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই দোকানে ভিড় জমান। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় সাগর থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই মাথার খুলিটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মর্গে পাঠিয়ে দেয়।

পুলিশের তদন্ত ও অভিযুক্তের সাফাই

স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে দোকানদার আইয়ুব আলি শেখ দাবি করেন, তাঁর এক নাবালক ছেলে নাকি খালের ধারে মাছ ধরতে গিয়েছিল। সেখানেই সে ওই মাথার খুলিটি দেখতে পেয়ে কুড়িয়ে আনে। তবে ছেলের কুড়িয়ে আনা সেই মাথার খুলি কেন বা কী উদ্দেশ্যে কসাইখানার মতো মাংসের দোকানে এনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই ব্যবসায়ী।

নামখানার এসডিপিও সুমন কান্তি ঘোষ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে আটক করে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্ত এখনও অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর নেপথ্যে অন্য কোনো বড় রহস্য বা অপরাধমূলক যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সমস্ত দিক বিবেচনা করা হচ্ছে।” এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক তরজা শুরু হয়েছে।