সমুদ্রের অতল গহ্বর হোক বা ঢেউয়ের বুক চিরে আসা শত্রু জাহাজ— ভারতের হাত থেকে নিস্তার পাওয়া এবার অসম্ভব। দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন ইতিহাস তৈরি করল ডিআরডিও (DRDO) এবং ভারতীয় নৌবাহিনী। ওড়িশা উপকূলের চণ্ডীপুরে বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নৌ-হেলিকপ্টার থেকে অত্যন্ত সফলভাবে ‘নেভাল অ্যান্টি-শিপ মিসাইল-শর্ট রেঞ্জ’ (NASM-SR)-এর ‘স্যালভো’ পরীক্ষা সম্পন্ন করল ভারত।
কী এই ‘স্যালভো’ পরীক্ষা? সাধারণত একটির পর একটি মিসাইল ছোঁড়া হলেও, ‘স্যালভো’ পরীক্ষায় একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম (এক্ষেত্রে হেলিকপ্টার) থেকে অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, হেলিকপ্টার থেকে ছোঁড়া দুটি মিসাইলই নিখুঁতভাবে সমুদ্রের মাঝখানে থাকা লক্ষ্যবস্তুর জলরেখায় আঘাত হেনেছে। রাডার এবং অত্যাধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সিস্টেমের মাধ্যমে এই পুরো অপারেশন ট্র্যাক করা হয়।
সম্পূর্ণ দেশীয় শক্তির কামাল: এই ক্ষেপণাস্ত্রটি হায়দ্রাবাদের ‘ইমারাত গবেষণা কেন্দ্র’ এবং ডিআরডিও-র ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে:
উন্নত সিকার ও এভিওনিক্স: যা অন্ধকারের মধ্যেও লক্ষ্যবস্তুকে খুঁজে বের করতে সক্ষম।
ডুয়াল ডেটা লিঙ্ক: যার মাধ্যমে মাঝ আকাশেও মিসাইলকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ফাইবার-অপটিক জাইরোস্কোপ: এটি মিসাইলটিকে দিকভ্রষ্ট হতে দেয় না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিনন্দন: ভারতের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি ডিআরডিও এবং নৌবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সামুদ্রিক শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।” ডিআরডিও প্রধান সমীর ভি. কামাতও বিজ্ঞানীদের এই সাফল্যের জন্য কুর্নিশ জানিয়েছেন।
সমুদ্রসীমায় চিনের ক্রমবর্ধমান দাপট রুখতে ভারতের এই নতুন অস্ত্র যে ‘গেমচেঞ্জার’ হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের অধীনে এই সাফল্য ভারতকে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভর হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।





