হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল তিনতলা গোডাউন! তারাতলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ, মৃত্যু বেড়ে কত?

কলকাতার তারাতলায় এক ভয়াবহ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। বুধবার ভরদুপুরে ব্রেসব্রিজের ট্রান্সডিপোর কাছে একটি তিনতলা নির্মীয়মাণ গোডাউন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল। দুর্ঘটনার সময় ভিতরে ৫০-৬০ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আটকে রয়েছেন বহু শ্রমিক। এখনও পর্যন্ত চার থেকে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুপুর ১২টা বেজে ৪৫ মিনিট নাগাদ গোডাউনটি পুরোপুরি মাটিতে বসে যায়। তিনতলা এবং দোতলার ছাদ ঢালাই হওয়ার পর একতলার কাজ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নির্মাণে পিলারের বদলে লোহার মোটা বিম এবং টিনের ওপর সিমেন্ট, রড ও স্টোনচিপের ঢালাই ব্যবহার করা হয়েছিল। নির্মাণের গুণমান এবং নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় একের পর এক গোডাউন বেআইনিভাবে তৈরি হচ্ছে। বিজেপি বিধায়ক রাকেশ সিং সরাসরি ‘বেরা অ্যান্ড কোম্পানি’ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকার্য। ধ্বংসস্তূপের বিশাল এলাকা জুড়ে লোহার বিম এবং সিমেন্টের চাঁই সরানো হচ্ছে গ্যাসকাটার ও ভার্টিকাল ড্রিলিং মেশিনের সাহায্যে। উদ্ধারকারীদের মনোবল জোগাতে এবং আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। ভিতরে জল পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে এখনও আর্তনাদ ও চিৎকার ভেসে আসছে, যা উদ্ধারকারীদের কাজকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে নবান্নে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য হেল্পলাইন নম্বরগুলি হলো— ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩-২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩-২২৫৩৫১৮৫। দুর্ঘটনাস্থলে সেনার অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছেছে এবং উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছে সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের সারি তৈরি রাখা হয়েছে। শম্ভু বেরা নামক নির্মাতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদ্ধারকার্য সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির ভয়াবহতা বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।