মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারির পর এবার রণংদেহি মেজাজে পাল্টা জবাব দিল ইরান। খামেনেই সরকারের সাফ বার্তা, আমেরিকা যদি কোনোভাবে সামরিক দুঃসাহস দেখায়, তবে চুপ করে বসে থাকবে না তেহরান। লক্ষ্যবস্তু করা হবে ইজরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজকে।
পাল্টা হামলার ছক ইরানের: রবিবার ইরানের সংসদে দাঁড়িয়ে স্পিকার মহম্মদ বাকির কালিবাফ অত্যন্ত কড়া ভাষায় ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “যদি ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা হয়, তবে ইজরায়েল ও আমেরিকার সামরিক পরিকাঠামো ছারখার করে দেওয়া হবে। আমাদের টার্গেট লিস্টে ওদের সমস্ত ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ রয়েছে।” ইরানের এই প্রকাশ্য হুমকিতেই হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে ইজরায়েল জুড়ে।
অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে উত্তাল ইরান: একদিকে বহিরাগত চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতরেই ত্রাহি ত্রাহি দশা। ২০২২ সালের পর ফের গণবিদ্রোহের আগুনে পুড়ছে ইরান। আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি ও চরম আর্থিক সংকটে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সাধারণ মানুষের। রাস্তা নেমে সরকার পতনের ডাক দিচ্ছে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে প্রশাসন।
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ট্রাম্পের বার্তা: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই গণবিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ২০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যদিও সরকারিভাবে এই তথ্য স্বীকার করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করার জন্য ইরানকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, “ইরান স্বাধীনতার দিকে এগোচ্ছে।”
অন্যদিকে, তেহরানের অভিযোগ, এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার প্রত্যক্ষ প্ররোচনা। বিক্ষোভকারীদের একাংশ মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ সরকারের। সব মিলিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ গোলমাল এখন আন্তর্জাতিক সংঘাতের রূপ নিতে শুরু করেছে।