হুকিং রুখতে আসছে ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপ! বেআইনি বহুতলে লাইন কাটার কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুকিং বা বিদ্যুৎ চুরি রুখতে নতুন সরকারি অ্যাপ চালুর পাশাপাশি বেআইনি বহুতলগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি, জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে ‘স্টেট মেট্রো’ বা রিজিওনাল মেট্রো চালুরও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপ ও বেআইনি বহুতলে কড়া পদক্ষেপ

রাজ্যে বিদ্যুৎ চুরি ও বেআইনি সংযোগ রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে নতুন সরকার। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন:

  • ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপ: বিদ্যুৎ চুরি রোধ করতে এবং সাধারণ মানুষ যাতে সহজে বেআইনি সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনা হচ্ছে বিশেষ ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপ।

  • বেআইনি বহুতলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন: মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যে সমস্ত বহুতল বা বিল্ডিং বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ চুরি করছে, সেখানে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

  • কর্মীবাহিনী ও পরিকাঠামো: বিদ্যুৎ দফতরকে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি জানান, দফতরে প্রচুর পদ খালি রয়েছে। দ্রুত মেধাযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার ও দক্ষ কর্মী নিয়োগ করা হবে। এছাড়া যেখানে সাব-স্টেশন তৈরির কাজ পেন্ডিং রয়েছে, তা দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলাতেও মেট্রো পরিষেবা চালুর ঘোষণা

এদিন শুধু বিদ্যুৎ দফতর নয়, পরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন যে, কলকাতা বা তার আশপাশের গণ্ডি ছাড় এবার জেলা স্তরেও মেট্রো পরিষেবা চালু করা হবে।

  • প্রাথমিক পর্যায়ে কাছাকাছি থাকা দুটি প্রধান শহরকে জুড়বে এই মেট্রো। সেই মতো আসানসোল-দুর্গাপুর এবং শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি জোড়াতে মেট্রো চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

  • এছাড়া কলকাতা শহরেও ধীরে ধীরে সিটি মেট্রো চালুর প্রকল্প তৈরি করতে মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনই তিনি ৫০টি নতুন এসি বাসেরও উদ্বোধন করেন।

পূর্বের সরকারকে আক্রমণ

অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বিগত ১৫ বছরের জমানাকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর না দিয়ে শুধু ভাতা দিয়ে সরকার চালাতে চেয়েছে। সাব-স্টেশন তৈরির জন্য জমি না দেওয়ায় বহু প্রকল্প আটকে ছিল। তবে ব্যক্তির বা দলের পরিবর্তন হলেও সরকারি দফতর ও উন্নয়নের গতি নিরবচ্ছিন্ন থাকবে বলেই আশাবাদী রাজ্য সরকার।