হিমালয়ে খসে পড়ল আস্ত হিমবাহ! কেদারতালে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার, আশঙ্কায় কাঁপছে বাংলা!

উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় হিমালয়ের বুকে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক বিপর্যয়। বিখ্যাত কেদারতাল ট্রেকিং রুটে ১৫ হাজার ৪৮৫ ফুট উচ্চতায় বিশাল তুষারধসের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন ৮ জন পর্বতারোহী। প্রতিকূল আবহাওয়া ও চরম মাইনাস তাপমাত্রার মধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি চালিয়ে বুধবার সকালে আরও এক পুরুষ ট্রেকারের দেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। এই নিয়ে ঘটনায় সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বাকি ৫ জন, যাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্বতারোহীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মাইনেস তাপমাত্রায় একটানা উদ্ধার অভিযান

উত্তরাখণ্ড স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (SDRF) কমান্ড্যান্ট অর্পণ যাদববংশী জানিয়েছেন, মঙ্গল ও বুধবার মিলিয়ে এ পর্যন্ত তিনটি দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ক্রমাগত তুষারপাত, গ্লেসিয়ার বা হিমবাহের গভীর ফাটল এবং দুর্গম পার্বত্য পথ সত্ত্বেও এসডিআরএফ (SDRF), এনডিআরএফ (NDRF), নেহেরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং (NIM), পুলিশ ও বন দপ্তরের যৌথ দল এক মুহূর্তের জন্যও উদ্ধারকাজ থামায়নি।

উত্তরকাশীর জেলাশাসক প্রশান্ত আর্য জানান, বুধবার বেলা ১১টা ৫২ মিনিট নাগাদ উদ্ধার হওয়া দেহগুলি হেলিকপ্টারে করে উত্তরকাশীর মাতলি হেলিপ্যাডে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখান থেকে ময়নাতদন্ত ও শনাক্তকরণের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারে যুক্ত জওয়ানদের জন্য হেলিকপ্টারের সাহায্যে জরুরি রেশন ও রসদও পাঠানো হচ্ছে।

কারা ছিলেন এই ট্রেকিং দলে?

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ দলটিতে মোট আটজন সদস্য ছিলেন—

  • পশ্চিমবঙ্গ: ৫ জন পুরুষ ট্রেকার (যাঁদের মধ্যে বাঁকুড়ার বাসিন্দা যুবকেরাও রয়েছেন)।

  • উত্তরপ্রদেশ: ২ জন মহিলা ট্রেকার।

  • উত্তরকাশী: ১ জন স্থানীয় গাইড।

পুরো এক্সপেডিশন দলটি ছিল ১২ সদস্যের (৭ জন মূল ট্রেকার এবং ৫ জন সহযোগী কর্মী)। গত ২৭ অক্টোবর গঙ্গোত্রী থেকে যাত্রা শুরু করে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল।

যেভাবে ঘটেছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

গত ২৯ অক্টোবর ১৫,৪৮৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত হিমবাহ হ্রদ কেদারতাল থেকে যখন দলটি সমতলের দিকে নেমে আসছিল, ঠিক তখনই ‘কেদার খড়ক’ নামক ক্যাম্পসাইটের কাছে এক ভয়াবহ তুষারধসের কবলে পড়েন তাঁরা। নিমেষের মধ্যে বরফের তলায় চাপা পড়ে যান ট্রেকাররা।

দলের ৪ জন সহযোগী কর্মী কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে ৩০ অক্টোবর গঙ্গোত্রীতে পৌঁছে স্থানীয় প্রশাসনকে এই দুর্ঘটনার খবর দেন। এরপরেই তড়িঘড়ি শুরু হয় বিশাল উদ্ধার অভিযান। ইতিমধ্যে গত সোমবার কেদার খড়কের কাছ থেকে নিখোঁজ দলটির বেশ কয়েকটি তাঁবু ও পিঠের ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে।

বর্তমানে নিখোঁজ বাঙালি পর্বতারোহীদের পরিবার গভীর আশঙ্কার প্রহর গুনছে। বরফে ঢাকা হিমালয়ের বুকে সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল জীবিত বা মৃত অবস্থায় বাকিদের উদ্ধারে নিজেদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।