অ্যাপে ধরা পড়ল ‘ফাঁকিবাজি’! যুব নেতাদের ওপর কড়া ব্যবস্থা রাহুলের দলের, তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি!

১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহ্যবাহী রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের হাইপ্রোফাইল সমাবেশে অনুপস্থিত থাকাই কাল হলো! হাইকমান্ডের নির্দেশ অমান্য করে সমাবেশে যোগ না দেওয়ায় ভারতীয় জাতীয় যুব কংগ্রেসের (IYC) অন্দরে শুরু হয়েছে চরম ছাঁটাই পর্ব। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৮০ জনেরও বেশি জাতীয়, রাজ্য ও জেলা স্তরের পদাধিকারীকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই গণ বরখাস্তের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে!
ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশ থেকে প্রায় ৬০ জন, কংগ্রেস শাসিত হিমাচল প্রদেশ থেকে অন্তত ১৩ জন এবং হরিয়ানা থেকে প্রায় ১০ জন যুব কংগ্রেস পদাধিকারীকে নোটিশসহ বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও একই প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে।
অ্যাপে স্ক্যান করে ধরা পড়ল ‘ফাঁকিবাজি’!
দলীয় নির্দেশ সত্ত্বেও কারা মিছিলে অনুপস্থিত ছিলেন, তা চিহ্নিত করতে এবার অভিনব প্রযুক্তির পথ ধরেছিল যুব কংগ্রেস নেতৃত্ব। মিন্টো রোডের জমায়েতস্থলে ডিজিটাল বারকোড স্ক্যানার বসানো হয়েছিল এবং সংগঠনের নিজস্ব ‘উইথ আইওয়াইসি’ (With IYC) অ্যাপে সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ ছিল।
যুব কংগ্রেসের দাবি, রাহুল গান্ধীর পদযাত্রায় প্রায় ১৫,০০০ মানুষ অংশ নিলেও ডিজিটাল অ্যাপে নাম নথিভুক্ত করেছেন মাত্র ২,৮৩১ জন। মূল মূল্যায়ন বৈঠকের পর দেখা যায়, বহু পদাধিকারী কোনো আগাম কারণ না দর্শিয়েই অনায়াসে অনুপস্থিত ছিলেন। যার পর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব।
আইওয়াইসি (IYC) সভাপতি উদয় ভানু চিব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন,
“আমাদের সমাবেশ সফল হলেও যারা দলের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করেছে, সংগঠনে তাদের জায়গা নেই। দায়িত্বজ্ঞানহীনদের সরিয়ে নিষ্কলঙ্ক ও পরিশ্রমী কর্মীদের পদ দেওয়া হবে। দায়িত্বে কেবল তাদেরই থাকতে হবে, যারা সক্রিয়।”
১০ লাখের ভিড়ের দাবি বনাম বাস্তবে ‘ফাঁকা চেয়ার’!
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে ১০ লক্ষ মানুষের সমাগম হবে বলে আগে দাবি করেছিলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, উপস্থিতি ছিল প্রত্যাশার ১০ শতাংশের থেকেও কম।
বিজেপি অবশ্য লোকসমাগম নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করেছে। বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র ড্যামেজ কন্ট্রোল উড়িয়ে দাবি করেন, “রামলীলা ময়দানের ৪০ শতাংশ জায়গাই ফাঁকা ছিল। ওদের পাতা ২৮ হাজার চেয়ারের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৭ হাজার চেয়ারে কোনো মানুষই ছিল না!”
জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যেতে হবে: ক্ষুব্ধ রাহুল গান্ধী
সমাবেশ শেষে রাহুল গান্ধী ‘এক্স’-এ পোস্ট করে দাবি করেন, এই জনস্রোত গণতন্ত্র রক্ষার প্রমাণ। তবে সমাবেশ চলাকালীন মঞ্চ থেকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন রাহুল। তিনি বলেন, “ভারতের প্রতিটি নাগরিককে বলছি— সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সরতেই হবে এবং তাঁকে জেলে যেতে হবে। জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহ ক্ষমতায় থাকতে পারতেন না। দেশে দীর্ঘদিন ধরে ইভিএম ও ভোটার তালিকায় কারচুপি করে ভোট চুরি চলছে।”
বর্তমানে কেবল যুব কংগ্রেস নয়, সাধারণ কংগ্রেসের ‘ওয়ার রুম’-ও ময়দানে নেমেছে। যেসব জেলা সভাপতি ও পদাধিকারীরা কারণ ছাড়াই দিল্লির সমাবেশে যোগ দেননি, তাঁদের বিরুদ্ধেও বড়সড় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত মিলছে।