এক ধাক্কায় বাড়ল দৈনিক মজুরি! উত্তরবঙ্গের মেহনতি মানুষদের জন্য রাজ্য সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত! পাহাড় ও ডুয়া

পাহাড় ও তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দাবির অবশেষে প্রতিফলন ঘটল। সিঙ্কোনা বাগান শ্রমিকদের দৈনিক ন্যূনতম মজুরি একধাক্কায় বহুগুণ বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিঙ্কোনা বাগানের প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি সংশোধন করে ৪০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই নতুন মজুরি পরিকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই (২০২৬) থেকেই বকেয়া হিসাব-সহ কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে উৎসবের এই আবহেই পাহাড়ের হাজার হাজার শ্রমজীবী পরিবারের হাতে আসতে চলেছে মোটা অঙ্কের অর্থ, যা তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুভেন্দু ও অর্জুন সিংকে ধন্যবাদ সাংসদ রাজু বিস্তার
রাজ্য সরকারের এই জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপকে নিঃশব্দে স্বাগত জানিয়েছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পাহাড়ের প্রান্তিক সিঙ্কোনা শ্রমিক পরিবারগুলি বছরের পর বছর ধরে নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং ন্যায্য পারিশ্রমিকের দাবিতে লড়ে আসছিল।
শ্রমিকদের সেই সংবেদনশীল ও মৌলিক দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং-এর মানবিক মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন ও ধন্যবাদ জানান।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাংসদ লেখেন, “আগের সরকারের আমলে শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুদৃঢ় নেতৃত্বে শ্রমদপ্তর দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করেছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই ৪০৬ টাকার দৈনিক মজুরি শ্রমিকদের আত্মমর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।”
আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
বর্তমান বাজারদরের উর্ধ্বগতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাড়তি দামের সঙ্গে তাল মেলাতে এই মজুরি বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো সহজ হবে এবং তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব লাভ করবেন।
সাংসদ আরও আশ্বস্ত করেন যে, কেবল সিঙ্কোনা বাগানই নয়, সমগ্র উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের চা বাগান কর্মী এবং সাধারণ মেহনতি মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আঞ্চলিক অর্থনীতিবিদদের মতে, শ্রমিকদের হাতে বাড়তি অর্থ আসায় স্থানীয় বাজার ও সার্বিক অর্থব্যবস্থাতেও এর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।