হিমলুং বেস ক্যাম্পে ভয়াবহ তুষারধস! মুহূর্তের মধ্যে বরফের নিচে ঢাকা পড়ে উদ্ধার ২ দেহ, নিখোঁজ অন্তত ১০!

প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে ফের বড়সড় বিপদের মুখে পড়ল নেপাল। মানাং জেলার অত্যন্ত উঁচুতে অবস্থিত ৭,১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং পর্বতের বেস ক্যাম্পে নেমে এল এক ভয়ঙ্কর তুষারধস। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জন পর্বতারোহীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জন অভিযাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম এলাকার কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলিকে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) এবং নেপাল পুলিশের সদর দপ্তরের তরফে এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে এই দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে যে, উদ্ধারকারী দলগুলি ঘটনাস্থল থেকে দুটি মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছে।

কেন ঘটল এই বিপর্যয়?

অভিযাত্রী আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহেই আবহাওয়া খারাপ হওয়ার সতর্কবার্তা পেয়ে অধিকাংশ অভিযাত্রী ও দল পাহাড়ের ঢাল থেকে নেমে এসেছিলেন। তবে বেশ কয়েকজন ঝুঁকি নিয়েই সেখানে থেকে যান। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী আবহাওয়া চক্রের জেরেই পাহাড়ি এলাকায় এই ভারী তুষারপাত ও ধস নেমেছে। বিগত কয়েক দিন ধরে চলা টানা বৃষ্টি এবং তুষারপাতের কারণে গোটা নেপালজুড়েই জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানাং জেলার এই দুর্গম অঞ্চলে হেলিকপ্টার নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হওয়ায় উদ্ধারকাজেও বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

বন্যা ও ভূমিধসের জোড়া ফলায় বিপর্যস্ত নেপাল

শুধু তুষারধস নয়, টানা বৃষ্টির জেরে মধ্য নেপালের নারায়ণী নদীর জলস্তর ৯ মিটারের বিপদসীমা পার করে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া ম্যাংদি এবং বাগলুং জেলায় ভূমিধসের জেরে বহু মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। কালীগণ্ডকী নদীর রোষে ভেসে গেছে একাধিক বাড়ি ও সেতু। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বন্ধ রয়েছে চিতওয়ান যাওয়ার হাইওয়েগুলিও।

চলতি মাসে ভটেকোসির ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে গোটা দেশে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পর্যটন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত ট্রেকার ও পর্বতারোহীদের আপাতত তাঁদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।