উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার অসমে যদি শেষ পর্যন্ত পদ্ম শিবির হোঁচট খায়, তবে তার প্রভাব কেবল দিসপুরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তার কম্পন অনুভূত হবে দিল্লির রাইসিনা হিলসেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অসমের ফলাফল সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘নর্থ-ইস্ট স্ট্র্যাটেজি’ বা উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ওপর এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করতে পারে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার যে ‘পলিটিক্যাল ব্র্যান্ড’ বিজেপি গত কয়েক বছরে গড়ে তুলেছে, তা বড়সড় ধাক্কা খাবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বর্তমানে বিজেপির কাছে কেবল অসমের মুখ্যমন্ত্রী নন, বরং গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দলের প্রধান সেনাপতি। মণিপুর থেকে মিজোরাম—প্রতিটি রাজ্যে বিজেপির আধিপত্য বিস্তারের নেপথ্যে রয়েছে হিমন্তর ক্ষুরধার মস্তিষ্ক। যদি নিজের রাজ্যেই বিজেপি পর্যুদস্ত হয়, তবে মোদির ‘লুক ইস্ট’ নীতি বাস্তবায়নের যে প্রধান কারিগর, তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হবে। এর ফলে আঞ্চলিক দলগুলোর ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণ শিথিল হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মোদি যে উত্তর-পূর্ব ভারতকে ভারতের ‘উন্নয়নের ইঞ্জিন’ হিসেবে তুলে ধরছেন, সেই আখ্যানেও চিড় ধরবে। এই হার হবে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মডেলের জন্যও এক বড় পরীক্ষা, যা অসমের মাটিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল।





