হিংসার নেপথ্যে কি বিদেশিদের হাত? লাদাখে উত্তেজনা থামাতে কারফিউ, রাজ্যত্বের দাবিতে কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে স্থানীয় নেতৃত্ব।

রাজ্যত্ব এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে লাদাখ জুড়ে চলা আন্দোলন নতুন করে সহিংস রূপ নেওয়ার পর সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো পাঁচজন। বুধবার চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ জন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লেহ-তে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী কারফিউ জারি করে এবং বৃহস্পতিবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনকে আটক করেছে।

হিংসার নেপথ্যে বিদেশিদের যোগসূত্র?
প্রশাসনের দাবি, ধীরে ধীরে লেহ শান্ত হচ্ছে। তবে পুলিশ এই হিংসার ঘটনার নেপথ্যে বিদেশিদের হাত আছে কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে। একটি পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য তুলে ধরে পিটিআই জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজন নেপালের নাগরিক।

প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, “লাদাখ শান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। লেহ-তে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং পাঁচ বা তার বেশিজনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ভুল তথ্য প্রচারের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরনো বা উস্কানিমূলক ভিডিও প্রচার না করার জন্য আবেদন করেছে।

স্থায়ী সমাধানের জন্য কেন্দ্রের আলোচনা প্রয়োজন
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের গুলি চালানোর ফলেই এই পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। এই ঘটনার পরই ১৫ দিন ধরে চলতে থাকা অনশন প্রত্যাহার করেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

লাদাখের রাজনৈতিক নেতাদের একটা বড় অংশের দাবি, এই অসন্তোষ মোকাবিলায় নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্রুত আলোচনা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, রাজ্যের মর্যাদা দ্রুত ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ) এর নেতা সাজ্জাদ কার্গিলি বলেন, “বিষয়টি এখন কেন্দ্রের বিবেচনাধীন। লাদাখের মানুষ অনেক দিন ধরে ধৈর্য ধরে আসছে।” লাদাখের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মনে করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

বর্তমানে লেহ শান্ত থাকলেও বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি।