হাসপাতাল চত্বরে এ কী করলেন খগেন মুর্মু! মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শুনে থ বনে গেলেন সকলে

মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম শোরগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের চত্বরে দাঁড়িয়ে প্রবীণ এই বিজেপি সাংসদ সরাসরি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শानিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালে চুরি এবং দুর্নীতি ছাড়া অন্য কোনো কাজ হয়নি। রাজ্যে বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটার পরেই চোরেদের এই দল হয় গা ঢাকা দিয়েছে অথবা ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছে বলে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে প্রকাশ, গত রবিবার সাংসদ কোটার অনুদান থেকে কেনা একটি নতুন অ্যাম্বুল্যান্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছিলেন মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। এদিনের এই জনবহুল অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা কমিটির বিশিষ্ট সদস্য আদর্শ রাম-সহ স্থানীয় দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে সাংসদ উপস্থিত সাধারণ মানুষকে স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এলাকার সাধারণ দুস্থ ও অসহায় রোগীরা এখন থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই জীবনদায়ী অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালের নাজুক পরিকাঠামো এবং চিকিৎসাসেবার করুণ দশা নিয়ে লাগাতার ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন স্থানীয় এলাকাবাসী। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত গাফিলতি নিয়েও বহু প্রশ্ন উঠেছিল। এই অঞ্চলের লক্ষাধিক সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণভাবে এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত চিকিৎসক কিংবা স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন না। আর সেই চরম প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই হাসপাতালের আশপাশে রমরমিয়ে নিজেদের রমরমা ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল ভুয়ো হাতুড়ে চিকিৎসকরা। সাপ্তাহিক হাটের দিনে রীতিমতো অবৈধ চেম্বার খুলে সেখানে অবাধে রমরমিয়ে চলছিল তাদের চিকিৎসার নামে প্রতারণা, এমনকি বড়সড় অস্ত্রোপচারও করা হচ্ছিল।

পরবর্তীতে একটি প্রথম সারির গণমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশিত হতেই নড়েচড়ে বসেছিল জেলা স্বাস্থ্য দফতর এবং প্রশাসনিক কর্তারা, যার জেরে বাধ্য হয়ে সেই সমস্ত হাতুড়ে চিকিৎসকদের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় সাধারণ মানুষ যখন এই পুরো বিষয়টি সরাসরি সাংসদের নজরে আনেন, তখন খগেন মুর্মু অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে জানান, “যাঁরা জীবনে কখনো ডাক্তারির ‘ড’ পর্যন্ত পড়েননি, তাঁদেরই বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নিয়োগ করেছিল তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেই সমস্ত অযোগ্য ব্যক্তিদের গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে ডাক্তার বানিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এই অপসংস্কৃতি আর কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না।”

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করে বিজেপি সাংসদ আরও বলেন, “তিনি তো আবার সমস্ত বিষয়েই অত্যন্ত পারদর্শী! সব ধরনের ডিগ্রি ও সার্টিফিকেট তাঁর পকেটে রয়েছে। তিনি একাধারে স্বয়ং চিকিৎসক, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার, উচ্চমানের গবেষক এবং বিজ্ঞানী— সব কিছুই তিনিই! তাঁর জমানাতেই এই রাজ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র হাতুড়ে ডাক্তারখানা গজিয়ে উঠেছিল। তবে এখন সময় বদলেছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই দুর্নীতি হয়েছিল, যেখানে ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও দলীয় সুকৌশলে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং এখন সেই সমস্ত সিভিকদের পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে যোগ্যরা ছাড়া কেউ টিকতে না পারে।