হাসপাতালে বসেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া নজর! রাজ্যের সরকারি পরিষেবায় নতুন ‘মনিটরিং’ ব্যবস্থা

রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিল প্রশাসন। এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে সরাসরি নজরদারি চালানো হবে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার ওপর। হাসপাতালে রোগীর পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিকাঠামোগত অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য চালু করা হচ্ছে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা বা কন্ট্রোল রুম।
কীভাবে কাজ করবে এই নজরদারি?
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি পাটনা সফরের সময় সেখানকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দফতরে থাকা অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই রাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে:
সাব-ডিভিশন, জেলা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হবে।
জরুরি বিভাগে রোগী ঠিকমতো পরিষেবা পাচ্ছেন কি না, তা যাচাই করা হবে।
হাসপাতালের রান্নাঘর, পার্কিং এবং ওষুধের দোকানের পরিষেবার ওপর নজর দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা ও লক্ষ্য:
ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৫ থেকে ১৬টি স্টেট হাসপাতালে এই ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত সাব-ডিভিশন হাসপাতালকে এই ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে জেলা হাসপাতাল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
রোগীর গোপনীয়তা রক্ষার বার্তা:
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নজরদারির নামে রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। ওয়ার্ডের ভেতর রোগীদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা এবং জরুরি সেবার গাফিলতি চিহ্নিত করাই হবে এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।
প্রশাসনের আশা, এই কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে কোথাও কোনো গাফিলতি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে এবং হাসপাতালের সামগ্রিক পরিচালন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরবে।