হাসপাতালের হোস্টেলের দরজা ভাঙতেই হাড়হিম করা দৃশ্য! বাগদানের কিছুদিন পরেই রহস্যমৃত্যু তরুণ চিকিৎসকের

সুরাট নিউ সিভিল হাসপাতালের বিজি হোস্টেলের ১০০০৫ নম্বর ঘরের দরজা রবিবার সকালে যখন সিকিউরিটি গার্ডরা ভেঙে ফেললেন, তখন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল ৩০ বছরের এক তরুণ চিকিৎসকের lifeless দেহ। মৃত ওই যুবকের নাম হর্ষ পান্ডিয়া। তিনি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং কাজের পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দিনকয়েক আগেই পারিবারিকভাবে তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল, জীবনে শুরু হতে চলেছিল এক নতুন অধ্যায়। কিন্তু রবিবারের সেই সকালেই সব শেষ হয়ে যায়।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

রবিবার সকালে হর্ষের ইমার্জেন্সি ডিউটি থাকার কথা থাকলেও তিনি সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত হননি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর সহকর্মীরা হোস্টেলের ঘরে খোঁজ নিতে সিকিউরিটি গার্ডদের পাঠান। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় এবং কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় শেষ পর্যন্ত দরজা ভাঙা হয়। আর তখনই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে হর্ষের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে আঁতকে ওঠেন সকলে। খবর পেয়ে সুরাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁর বাবা ড. সুভাষ পান্ডিয়া।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পড়াশোনা বা কেরিয়ার নিয়ে হর্ষের কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা ছিল না। তবে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়রদের কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা ও মানসিক টানাপোড়েন চলত।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পানসেরিয়া দ্রুত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেন। হর্ষ শারীরিক বা মানসিক কোনো ধরনের র‍্যাগিং কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. জয়েশ সাচদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

সুরাট পুলিশ ও হাসপাতালের প্রাথমিক তদন্তে এক ভয়াবহ দিক সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চারজন সিনিয়র আবাসিক ডাক্তার বেশ কিছুদিন ধরেই হর্ষকে ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে হয়রানি করে আসছিলেন। এই লাগাতার মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই ওই তরুণ চিকিৎসক চরম পথ বেছে নিয়েছিলেন কি না, তা পুলিশ ও তদন্তকারী দল খতিয়ে দেখছে। মেধাবী এক চিকিৎসকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা হাসপাতাল চত্বরসহ চিকিৎসা মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।