হার্ড কপিতে নাম থাকলেও অনলাইনে উধাও ৭১ জন ভোটারের তথ্য! SIR নিয়ে নতুন জটিলতায় প্রশাসন কী বলছে?

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার গুমা এলাকার কয়েকশো মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রবীণ থেকে মধ্যবয়সি— সকলের মধ্যেই গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। বহু মানুষের খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে, রাতের ঘুম উধাও। এর মাঝেই আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে— নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার অস্তিত্ব নেই।

সূত্রের খবর, মালিপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ১৫৯ নম্বর বুথের ভোটার তালিকা পরীক্ষা করে দেখা যায়, ২০০২ সালের লিস্ট অনুপস্থিত থাকলেও ২০০৩ সালের তালিকায় অনেকের নাম রয়েছে। ২০০৩ সালের তালিকা অনুযায়ী ওই বুথে মোট ভোটার ছিলেন ৪৩৬ জন। পুরনো তালিকা অনলাইনে না পাওয়ায় এলাকাবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, কারণ নির্দেশ অনুযায়ী ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে, যার ফলে নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। এদিন ১৫৯ নম্বর বুথের সামনে বহু মানুষ জড়ো হয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিএলও চন্দ্রানী দাস জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনকে লিখিত আকারে জানিয়েছেন। কমিশনের তরফে তাঁকে ২০০৩ ও ২০০৪ সালের ভোটার তালিকা মিলিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। তিনি এলাকাবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন করে বলেছেন, আসন্ন ট্রেনিংয়ে বিস্তারিত সমাধান খুঁজে নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, গুমা এক নম্বর পঞ্চায়েতের ৬১ নম্বর বুথেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা কমিশনের ওয়েবসাইটে থাকলেও ৩৪৩ থেকে ৪১৪ নম্বর পর্যন্ত ভোটারদের নাম অনলাইনে অনুপস্থিত। হার্ডকপিতে নাম থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে নাম না থাকায় নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

গুমা ১ নম্বর অঞ্চলের যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সাদিক সাহাজি সরাসরি অভিযোগ করেন, এটা মুসলমানদের নাম বাদ দেওয়ার সুকৌশল চক্রান্ত। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম তুলে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর কথামতো চক্রান্ত করে ১ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্তত ৭১ জনের নাম অনুপস্থিতির বিষয়টি স্থানীয় বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে অশোকনগরের বিজেপির মন্ডল সভাপতি বাপি মিস্ত্রি তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, “কোনো মুসলিম ভোট বাদ যাবে না। বাদ যাবে শুধু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীরা। যারা এই দেশীয় লোক, তাদের নাম থেকে যাবে। তৃণমূল মানুষকে ভুলভাল বোঝানোর চেষ্টা করছে।” SIR শুরুর আগেই এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও সমাধানই এখন গুমা অঞ্চলের সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy