২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন টগবগ করে ফুটছে। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে ভোট কৌশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC) এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি (ED) হানা ঘিরে বেনজির পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল রাজ্য। তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হন এবং অভিযোগ উঠেছে, তিনি তল্লাশির মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ হার্ডডিস্ক, মোবাইল ফোন এবং একটি রহস্যময় ‘সবুজ ফাইল’ ছিনিয়ে নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইডি এবং তৃণমূলের সংঘাত এখন রাস্তার লড়াই ছাড়িয়ে আদালতের দোরগোড়ায়। ইডি-র দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে সরাসরি বাধা দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ লোপাট করেছেন। পালটা ইডি-র বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর (FIR) করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে ইডি তৃণমূলের গোপন নির্বাচনী কৌশল, প্রার্থী তালিকা এবং ডেটা চুরি করার চেষ্টা করছে। মমতা স্পষ্ট ভাষায় শাহকে ‘দুষ্টু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
বিজেপি এই ঘটনাকে সাংবিধানিক কাঠামোর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া হিসেবে দেখছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ইডি-র কাজে বাধা দিয়ে অপরাধ করেছেন এবং বাংলায় এখন ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার উপযুক্ত সময়। এমনকি সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং কংগ্রেসও মমতার এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তাঁর গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য গ্রেফতারি এড়ানোর কোনো রক্ষাকবচ নেই। যদি ইডি প্রমাণ করতে পারে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ ধ্বংস করেছেন, তবে তিনি বড়সড় আইনি বিপাকে পড়তে পারেন। সুপ্রিম কোর্টের এসআর বোমাই মামলার (১৯৯৪) প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা কঠিন হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনের মুখে এই ইডি-মমতা লড়াই বাংলার ভাগ্য কোন দিকে ঘোরায়, সেটাই এখন দেখার।