একটা গোটা প্রজন্মের ছোটবেলা যাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ ছিল, সেই নীল রঙের রোবট বিড়ালটি এবার বিদায় নিল চিরতরে। বন্ধ হয়ে গেল বিশ্বখ্যাত কার্টুন সিরিজ ‘ডোরেমন’-এর সম্প্রচার। যে চরিত্রটি ৩৫ বছর ধরে কচিকাঁচাদের পাশাপাশি বড়দেরও মন ভরিয়ে রেখেছিল, তাঁর এমন আচমকা বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কোথায় থামল সফর? ইন্দোনেশিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল RCTI-এর পর্দা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে ডোরেমন। ২০২৫-এর শেষে প্রকাশিত চ্যানেলের নতুন অনুষ্ঠান সূচিতে ডোরেমন-এর নাম না থাকায় সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। এরপর ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়, আর ফিরবে না নোবিতা-ডোরেমনের সেই কালজয়ী জুটি। ইন্দোনেশিয়ার একটি সিনেমা সংক্রান্ত সংস্থা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
স্মৃতির পাতায় ডোরেমন: জাপানের ‘টিভি আসাহি’-তে প্রথম যাত্রা শুরু করা এই অ্যানিমেশন সিরিজটি কেবল একটি কার্টুন ছিল না। বিপদে পড়া অলস নোবিতাকে বাঁচাতে ডোরেমনের সেই ‘ম্যাজিক পকেট’ থেকে বের হওয়া ‘ব্যাম্বু কপ্টার’ বা ‘এনিহোয়ার ডোর’ ছিল কোটি কোটি শিশুর কল্পনা। ডোরেমন মানেই ছিল সমস্ত সমস্যার সমাধান আর এক গভীর বন্ধুত্বের গল্প। কিন্তু কেন এই জনপ্রিয় শো হুট করে বন্ধ করা হলো, তা নিয়ে চ্যানেলের তরফ থেকে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
শার্লক হোমসের মতো কি ফিরবে ‘গ্যাজেট ম্যান’? ইতিহাস সাক্ষী, জনপ্রিয় গোয়েন্দা শার্লক হোমসের মৃত্যুর পর অনুরাগীদের প্রবল চাপে লেখক আর্থার কোনান ডয়েল তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিলেন। ডোরেমনের ক্ষেত্রেও কি তেমন কিছু ঘটবে? ভারত ও বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অনুরাগীরা এখন সেই আশাতেই দিন গুনছেন। হ্যাশট্যাগ #Doraemon দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে আবেগী সব পোস্ট।
আপাতত ডোরেমনের সেই ম্যাজিক পকেট আর নতুন কোনও সমস্যার সমাধান করতে আসবে না। ছোটবেলার একটা সোনালি অধ্যায় যেন আজ পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে গেল।