হায় ঈশ্বর, স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখেছিলেন, ঋণ শোধের টাকা নিয়ে হাসপাতালে এসে সর্বস্ব খোয়ালেন বৃদ্ধ

স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে নেওয়া ঋণ শোধ করতে যাচ্ছিলেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল সাত্তার। কিন্তু টাকা জমা দেওয়ার আগেই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। শারীরিক অসুস্থতার জন্য মালদহ মেডিকেল কলেজের আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে এসে পকেটমারির শিকার হলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে খোয়ালেন নগদ ১৬ হাজারেরও বেশি টাকা এবং মোবাইল ফোন। কার্যত পথে বসার জোগাড় হয়েছে ওই বৃদ্ধের।

কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?

মালদহের দরগা পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল সাত্তার। মঙ্গলবার সকালে ঋণ শোধ করার ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল যাতায়াতের জন্য আরও ৫৪০ টাকা। কিন্তু ঋণের টাকা দেওয়ার আগে তিনি অসুস্থতার কারণে মালদহ মেডিকেল কলেজে আসেন ডাক্তার দেখাতে।

বৃদ্ধের অভিযোগ, তিনি প্রথমে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ডাক্তার দেখান। এরপর ডাক্তার তাঁকে লিফটে করে পাঁচতলায় যেতে বলেন। কথামতো লিফটে ওঠার পরই ঘটে যায় এই ঘটনা। কেউ বা কারা তাঁর পাঞ্জাবির পকেট কেটে সমস্ত টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে চম্পট দেয়।

ঘটনাটি বুঝতে পেরেই তিনি চারিদিকে খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এরপর অসহায় বৃদ্ধ ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

নিজের সর্বস্ব হারিয়ে আব্দুল সাত্তার এখন দিশেহারা। স্ত্রীর গয়না ফেরত পাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় তিনি এখন গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।