‘হাম দিল দে চুকে সনম’ রিয়েল লাইফে, স্ত্রীর প্রেমকে স্বীকৃতি, পাড়া-প্রতিবেশীর সামনে নিজের হাতে বিয়ে দিলেন স্বামী

মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার পল্লিশ্রী গ্রামে সম্প্রতি এক বিরল ঘটনা ঘটেছে, যা বলিউড পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালির জনপ্রিয় ছবি ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এর চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। প্রায় সাত বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী যুবকের দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিয়ে স্বামী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ে দিলেন।
বারবার ঘর ছাড়া ও স্বামীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
পলিশ্রী গ্রামের রবীন সরকারের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী বিচিত্রা সরকারের বিয়ে হয়েছিল সাত বছর আগে। তাঁদের একটি পাঁচ বছরের পুত্রসন্তানও রয়েছে। কিন্তু বছর দুয়েক আগে বিচিত্রা প্রতিবেশী দেওর অমিয় সরকারের প্রেমে পড়েন।
বারবার পলায়ন: প্রেমের টানে বিচিত্রা ইতিমধ্যে চারবার স্বামীকে ছেড়ে পালিয়েছিলেন। প্রতিবারই গ্রামের লোকজনের সালিশি করে তাঁকে স্বামীর ঘরে ফিরিয়ে দিয়েছিল।
পঞ্চমবারের ঘটনা: কিন্তু বুধবার রাত ১১টা নাগাদ বিচিত্রা পঞ্চমবারের জন্য অমিয়র কাছে চলে আসেন এবং জেদ ধরে বসেন যে তিনি অমিয়কেই বিয়ে করবেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বিচিত্রার স্বামী রবীন সরকার সেখানে আসেন এবং সকলের সামনে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। তিনি কথা দেন, বৃহস্পতিবার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অমিয়র সঙ্গে নিজের স্ত্রীর বিয়ে দেবেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রবীন নিজের কথা রাখলেন।
অনুষ্ঠান: অমিয়র বাড়ির সামনে রীতিমতো অনুষ্ঠান করে পুরোহিত ডেকে নিজের স্ত্রীর বিয়ে দিলেন রবীন।
স্বামীর উক্তি: রবীন সরকার নিজে হাতে ধরে স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের চার হাত এক করেন। তিনি তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলেকে নিজের কাছে রেখে নবদম্পতিকে বলেন, “তোমরা সুখে থাকো, ভালো থাকো। সংসারে কিছু দরকার হলে আমাকে একবার বোলো।”
রবীন সরকার বলেন, “প্রেমে বাধা হতে পারিনি। প্রেমের সম্পর্ককে মর্যাদা দিয়েছি। তাই ওদের এক করে দিলাম। স্ত্রীর কাপড়-চোপড়, গয়না, আসবাবপত্র যা কিছু ছিল সব দিয়ে দিয়েছি।”
অন্যদিকে, নববধূ বিচিত্রা বলেন, “ওকে আমি দু’বছর ধরে ভালোবাসি। ওকে ছাড়া বাঁচতে পারতাম না। তাই স্বামী দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের বিয়ে দিয়েছেন।” গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারাও রবীনের এই সিদ্ধান্তকে ‘মহানূভবতার পরিচয়’ বলে অভিহিত করেছেন।