‘হানজুল্লা’র ভিডিয়োতেই ২০০ বোমা তৈরি? ৪ ডাক্তার-মৌলবীকে জেরা করছে NIA

দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ কাণ্ডে হোয়াইট কলার জঙ্গি মডিউলের যোগসূত্র প্রকাশ্যে আসতেই তদন্তে গতি এনেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বৃহস্পতিবারই চার অভিযুক্ত— চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গনাই, চিকিৎসক শাহিন শাহিদ, চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাঠের এবং মুফতি ইরফান আহমেদ ওয়াঘি-কে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
এই জেরা চলাকালীনই সামনে এল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এনক্রিপ্টেড অ্যাপে বোমা তৈরির ভিডিয়ো
তদন্তকারী সূত্র জানাচ্ছে, ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গনাইয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের এক জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। ওই হ্যান্ডলার এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে মুজাম্মিলের কাছে মোট ৪২টি বোমা তৈরির ভিডিয়ো পাঠিয়েছিল!
গোয়েন্দাদের অনুমান, জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানের মৌলবী ইরফান আহমেদের মাধ্যমেই ওই পাক হ্যান্ডলারের সঙ্গে মুজাম্মিলের যোগাযোগ তৈরি হয়। জইশ জঙ্গি সংগঠনের ওই হ্যান্ডলার ‘হানজুল্লা’ নামে পরিচিত। যদিও এটি তার ‘কোড নেম’ বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা।
২০০ আইইডি তৈরির লক্ষ্য, টার্গেটে হাই প্রোফাইল এলাকা
১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণের ঘটনার পর তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউলটি বিগত কয়েক মাস ধরে দিল্লি, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ-সহ বিভিন্ন হাই প্রোফাইল এলাকাকে ‘টার্গেট’ করে প্রায় ২০০টি শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) তৈরি করছিল।
দিল্লি বিস্ফোরণে ব্যবহৃত i20 গাড়ি ছাড়াও আরও দু’টি গাড়ি কেনার তথ্য সামনে এসেছে। এই অবস্থায়, হ্যান্ডলারের পাঠানো ভিডিয়োগুলি দেখেই এই বিপুল সংখ্যক বোমা তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের কেন্দ্রে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়
এই জঙ্গি মডিউলের তদন্তে ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই হোয়াইট কলার মডিউল ও অন্যান্য জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য টাকা পাচারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
ওখলায় অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সদর দপ্তর-সহ কমপক্ষে ২৫টি জায়গায় NIA তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। এই তল্লাশির সময় ৪৮ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ, একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিপুল অর্থের উৎস জানতে ED ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।