পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় এবার সরকারি জমি এবং শ্মশানের জায়গা বিক্রির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। সরাসরি কাঠগড়ায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি। প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা এদিন ময়দানে নেমে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন অভিযুক্ত নেতাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তজনা ছড়িয়েছে।
কী অভিযোগ অশোক দিন্দার? বুধবার শ্রীরামপুর গ্রামের তেলিপোতা বাজার এলাকায় খালের বাঁধ সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে যান বিধায়ক অশোক দিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি অভিযোগ করেন:
-
তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি চিত্তরঞ্জন ভৌমিক খালের ধারের সরকারি জায়গা বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন।
-
অভিযোগ উঠেছে, হাত প্রতি ৩৫ হাজার টাকা দরে সেই সরকারি জায়গা বেআইনিভাবে বিক্রি করা হচ্ছে।
-
এমনকি খালের পাড়ে থাকা শ্মশানের জমিও বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন বিধায়ক।
দিন্দার সাফ কথা, “তৃণমূল নেতারা মানুষের যাতায়াতের রাস্তা আর সরকারি গাছও কেটে নিচ্ছেন। সর্বসাধারণের জায়গা কীভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থে বিক্রি হয়? আমরা বিডিও এবং ভূমি সংস্কার দফতরে অভিযোগ জানিয়েছি।”
পরিবারের সদস্যই তুললেন অভিযোগ! আশ্চর্যের বিষয় হলো, চিত্তরঞ্জন ভৌমিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁর নিজেরই দাদা জ্যোৎস্না ভৌমিক। তাঁর দাবি, খালের বাঁধের পাশে যাতায়াতের রাস্তা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছেন তাঁর ভাই।
শাসকদলের সাফাই: যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তথা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা চিত্তরঞ্জন ভৌমিক। তাঁর পালটা দাবি:
-
“যে জায়গা নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ‘রায়ত’ বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গা।”
-
জায়গাটি তিনিসহ আরও পাঁচজন মিলে কিনেছেন।
-
সেখানে কোনো সরকারি রাস্তা ছিল না এবং শ্মশানের জায়গা খালের উল্টোদিকে সম্পূর্ণ আলাদা।
তপ্ত মেদিনীপুরের রাজনীতি: ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে মেদিনীপুরের মাটিতে জমি দখল বা দুর্নীতির এই অভিযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বিধায়ক দিন্দার ‘ফিল্ডিং’ আর অন্যদিকে তৃণমূল নেতার ‘রায়ত’ জায়গার দাবি— দুই পক্ষের এই লড়াইয়ে আপাতত উত্তপ্ত তমলুক ব্লক। প্রশাসন খতিয়ে দেখছে ওই জমি আদতে সরকারি না কি ব্যক্তিগত।