আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের অন্দরে ‘অল ইজ নট ওয়েল’ বার্তা দিয়ে রীতিমতো চাবুক হাঁকালেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দলের মেগা ভার্চুয়াল বৈঠকে সাংসদ-বিধায়ক থেকে শুরু করে নিচুতলার কর্মীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। সাফ জানালেন, ওয়ার রুমে কোনো ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। দলের টিকিটে জিতে ঘরে বসে থাকলে বা ‘ধীরে চলো’ নীতি নিলে দল যে তাঁর পাশে দাঁড়াবে না, তা বুঝিয়ে দিলেন অভিষেক।
সাংসদ-বিধায়কদের কড়া বার্তা: অভিষেক এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “দলের জন্যই আপনারা আজ জনপ্রতিনিধি। আপনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মানে আপনাকে কাজ করতে হবে। আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই। নিজের দায়িত্ব পালন না করলে দল আপনার পাশে থাকবে না, আপনি সে যেই হোন।” এমনকি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, মানুষের জন্য লড়াই করতে প্রয়োজনে নেতাদের নিজেদের পকেট থেকেও খরচ করতে হবে।
এসআইআর এবং ১০০ দিনের লড়াই: ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে এই মুহূর্তের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অভিষেক। তিনি মনে করিয়ে দেন, লড়াইটা ছ’মাসের ছিল, যার তিন মাস অতিক্রান্ত। হাতে মাত্র ১০০ দিন থাকলেও এসআইআর-এর আসল কাজের জন্য সময় আছে মাত্র ২২ দিন। এই সময়ের মধ্যে ১ কোটি ৬৮ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। অভিষেকের নির্দেশ, তালিকা প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করতে হবে এবং প্রতিটি বুথে ‘ভোট রক্ষা কমিটি’ গড়তে হবে।
বিজেপিকে রুখতে রণকৌশল: হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে অভিষেক দাবি করেন, বিজেপি বাংলায় বস্তাভর্তি ফর্ম নিয়ে কারচুপি করার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, “একসঙ্গে ১০টির বেশি ফর্ম জমা দেওয়া বেআইনি হলেও বিজেপি সেই কাজই করছে।” এই অশুভ আঁতাত রুখতে বিএলএ-২ এবং বুথ সভাপতিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ তালিকায় থাকা ভোটারদের নাম যাতে কোনোভাবেই বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে ওয়ার রুমকে।
শেষে তাঁর কড়া নির্দেশ, সংসদের অধিবেশন ছাড়া বাকি পুরো সময় সাংসদদের নিজেদের এলাকায় পড়ে থাকতে হবে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের এই রণংদেহি মেজাজ বুঝিয়ে দিল, এক ইঞ্চি জমিও বিনা যুদ্ধে বিজেপিকে ছাড়তে নারাজ তৃণমূল।