মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘জাতিকে বিভ্রান্তিকর ভাষণ’-এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীকে ‘কাপুরুষ’ ও ‘দ্বিচারী’ বলে আক্রমণ করে মমতা সাফ জানিয়ে দিলেন, নারী সংরক্ষণের আড়ালে আসলে আসন পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’-এর মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইছে বিজেপি।
পরিসংখ্যান দিয়ে মোদিকে জবাব
প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে আক্রমণ শানালেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের উদাহরণ দিয়ে সেই দাবি নস্যাৎ করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন:
লোকসভা: তৃণমূলের নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে ৩৭.৯ শতাংশই মহিলা।
রাজ্যসভা: তৃণমূলের মনোনীত সদস্যদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ মহিলা। তৃণমূল নেত্রীর প্রশ্ন, যে দল কয়েক দশক ধরে রাজনীতিতে মহিলাদের উচ্চতর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে, তারা কেন বিলের বিরোধী হবে?
আসল চক্রান্ত ‘ডিলিমিটেশন’?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসলে ‘জেরিম্যান্ডারিং’ বা অন্যায্যভাবে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করতে চাইছে। তার দাবি:
“আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দেশের মানচিত্র এমনভাবে বদলানোর চেষ্টা হচ্ছে যাতে অ-বিজেপি রাজ্যগুলির তুলনায় বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি সংসদে বেশি আসন পায়। এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের ওপর নগ্ন আক্রমণ।”
তিন বছর কেন চুপ ছিল সরকার?
প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, যদি সদিচ্ছা থাকত তবে ২০২৩ সালে বিল পাশের পর তিন বছর কেন অপেক্ষা করল কেন্দ্র? কেন একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন তড়িঘড়ি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হলো? মমতার মতে, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই ধর্ম এবং ডিলিমিটেশনের তাস খেলছে গেরুয়া শিবির।
‘সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস দেখান’
বিবৃতির শেষে প্রধানমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মমতা লেখেন:
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরের বার যখন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, তখন সংসদে দাঁড়িয়ে তা করার সাহস দেখাবেন। সেখানে আপনাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। আপনি বুঝতে পারছেন ক্ষমতা আপনার হাতের মুঠো থেকে ফস্কে যাচ্ছে, তাই তা আঁকড়ে ধরতে আপনি যে কোনও স্তরে নামতে প্রস্তুত।”
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আগে এই ‘মহিলা সংরক্ষণ’ ইস্যু এখন শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের কাছেই প্রধান হাতিয়ার। মোদির আক্রমণের পর মমতার এই পাল্টা চাল ভোটের মেরুকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, তা ৪ মে-র ফলাফলেই পরিষ্কার হবে।





